স্পোর্টস ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়া নিয়ে বোর্ডের নীতিতে অসন্তুষ্ট কয়েকজন ক্রিকেটার ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকার কথাও ভাবছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এই তালিকায় বাংলাদেশের তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানার পাশাপাশি পেসার হাসান মাহমুদের নামও উঠে এসেছে। তবে ক্রিকেটাররা আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় চুক্তি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের একটি অংশ কেন্দ্রীয় চুক্তির বাধ্যবাধকতা কমিয়ে বিদেশি টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা চান। পূর্ণকালীন কেন্দ্রীয় চুক্তির পরিবর্তে তুলনামূলক নমনীয় ব্যবস্থায় যেতে আগ্রহী হতে পারেন তারা।
নাহিদ রানাকে ঘিরেই সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি বেশি আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেয়েছিলেন এই ডানহাতি পেসার। কিন্তু চোটের ঝুঁকি, ওয়ার্কলোড এবং জাতীয় দলের দায়িত্ব বিবেচনায় তাকে এনওসি দেয়নি বিসিবি।
বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে নাহিদ অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০২৬ সালে বল হাতে নজর কাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে চোটের সমস্যায় পড়তে হয়েছে এই গতিময় পেসারকে। ফলে তাকে নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিসিবি।
একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আরেক পেসার হাসান মাহমুদ। ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে খেলার জন্য এনওসি পেলেও পরে ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনার কারণে তাকে বেশি ম্যাচ না খেলার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কেন্টের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলার পর এশিয়ান গেমসের বাংলাদেশ দলে যোগ দিতে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।
শুধু নাহিদ ও হাসান নন, বিদেশি লিগে খেলার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিসিবির নীতিমালা নিয়ে জাতীয় দলের আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে কারা কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে চান কিংবা এ বিষয়ে বিসিবির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবশ্য কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার নজির নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউজিল্যান্ডের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার পূর্ণকালীন কেন্দ্রীয় চুক্তির পরিবর্তে নমনীয় ব্যবস্থাকে বেছে নিয়েছেন। এতে জাতীয় দলের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।
কেন উইলিয়ামসন, লকি ফার্গুসন, ফিন অ্যালেন, টিম সেইফার্ট ও মার্ক চ্যাপম্যানের মতো নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা বিভিন্ন সময়ে পূর্ণকালীন চুক্তির বাইরে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন। অলরাউন্ডার মাইকেল ব্রেসওয়েলও বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ বাড়াতে কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর রয়েছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যেও যদি একই প্রবণতা তৈরি হয়, তাহলে সেটি বিসিবির জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একদিকে জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের ফিট ও পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখা, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আর্থিক আকর্ষণ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই বোর্ডের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
তবে নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ কিংবা অন্য কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার কেন্দ্রীয় চুক্তি ছাড়ছেন—এমন সিদ্ধান্ত এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি আপাতত প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে। বিসিবি বা সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।
মন্তব্য করুন