আন্তর্জাতিক ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ৭৪তম জন্মদিনে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতভর চালানো এই হামলায় আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন শিশুসহ অন্তত ২০ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে। সেখানে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পাঁচতলা আবাসিক ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি বিভাগের কর্মীরা অভিযান চালান। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাবে সেখানে শিশুসহ বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছেন, পুতিনের জন্মদিনে রুশ বাহিনী যেন আবাসিক ভবন ধ্বংসকে ‘জন্মদিনের উপহার’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, হামলাটি ছিল পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর প্রচেষ্টা।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর হামলায় কিয়েভসহ দেশটির একাধিক অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। প্রিলুকির পাশাপাশি ক্রেমেনচুক, ওলেকসান্দ্রিয়া, নিপ্রো ও জাপোরিঝিয়াতেও হতাহত ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন, শিল্প স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এ দফায় প্রায় ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার অনেকগুলো ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাশাপাশি কয়েক ডজন দ্রুতগতির ড্রোনও ব্যবহার করা হয়। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, রুশ বাহিনীর পাঠানো ৪৬টি জেটচালিত ড্রোনের ৮০ শতাংশের বেশি তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো এখনো ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে স্বীকার করেছেন জেলেনস্কি। এ পরিস্থিতিতে তিনি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে। মস্কোর দাবি, উচ্চনির্ভুল অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে আবাসিক ভবনে হতাহতের বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে রুশ হামলার জবাবে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও দূরপাল্লার হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইউক্রেন। জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়ার দুটি তেল স্থাপনা ও একটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ইউক্রেনীয় বাহিনী আঘাত হেনেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা যুদ্ধে দুই পক্ষই সাম্প্রতিক সময়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। নতুন করে বড় ধরনের এই হামলা এমন সময়ে হলো, যখন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মস্কো ও কিয়েভের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে।
মন্তব্য করুন