আন্তর্জাতিক ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪
শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নয়, সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পৌঁছে দেওয়াই মালয়েশিয়ার ২০২৭ সালের বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমানো, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং উন্নয়নের সুফল আরও ন্যায্যভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে আসন্ন বাজেটে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আনোয়ার বলেন, পঞ্চম ‘মাদানি বাজেট’-এর মূল লক্ষ্য দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং সেই অগ্রগতিকে মানুষের উন্নত জীবনযাত্রায় রূপ দেওয়া।
মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ইতিবাচক ধারায় থাকলেও শুধু প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেই মানুষের সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না বলে মনে করেন আনোয়ার। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে জনগণের একটি অংশ এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর উদ্যোগ গুরুত্ব পাবে।
আনোয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের বাজেটে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের উন্নয়নের সুফল সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে আরও সমভাবে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকবে। বাজেটের বিস্তারিত প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপনের সময় প্রকাশ করবেন তিনি।
এর আগে বুধবার ২০২৭ সালের মাদানি বাজেট নিয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন আনোয়ার। সেখানে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং জনগণের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
মালয়েশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-পূর্ব পরিকল্পনায় জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা, সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, মৌলিক সেবার পরিধি বাড়ানো, ব্যবসার প্রতিযোগিতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে ব্যবসার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারের বিষয়ও বাজেট আলোচনায় এসেছে।
এমন এক সময়ে নতুন বাজেট আসছে, যখন মালয়েশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলক শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে দেশটির অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি ভর্তুকির চাপ এখনো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
আনোয়ার সরকারের অবস্থান হলো—দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য কেবল জিডিপি কিংবা অন্যান্য সূচকের উন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; সাধারণ মানুষের আয়, সুযোগ-সুবিধা এবং জীবনমানেও তার দৃশ্যমান প্রভাব থাকতে হবে।
আগামী শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দেওয়ান রাকইয়াতে ২০২৭ সালের বাজেট উপস্থাপন করবেন আনোয়ার ইব্রাহিম। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বেও থাকা আনোয়ারের নেতৃত্বাধীন মাদানি সরকারের এটি হবে পঞ্চম বাজেট।
মন্তব্য করুন