চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের নামে মিথ্যা ঘোষণায় আনা কাটা একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার, বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ ৭৪০আই গাড়ির সামনের অংশ এবং পাঁচটি ইসুজু ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইডিআই)।
মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে সোমবার বিকেলে কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল চট্টগ্রাম বন্দরে সন্দেহভাজন পণ্যচালানটির কায়িক পরীক্ষা করে এসব অনিয়ম শনাক্ত করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে চট্টগ্রামের হালিশহরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালানটি আমদানি করে। সিএন্ডএফ এজেন্ট চট্টগ্রামের আমিন সিএন্ডএফ প্রাইভেট লি.। রপ্তানিকারক আরব আমিরাতের আরব জাপান ইউজড কার এন্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি।
কাস্টমস গোয়েন্দা কতৃপক্ষ জানায়, শুল্ক ফাঁকি দিতে ও দেশে এনে পুনঃসংযোজনের উদ্দেশ্যে কাটা গাড়ি আনা হয়েছে কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে বিএমডব্লিউ গাড়িটির পেছনের অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হচ্ছে কি না, তা অনুসন্ধানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কায়িক পরীক্ষায় প্রথমে খণ্ডিত অবস্থায় একটি দুই আসনের বিএমডব্লিউ স্পোর্টস বা রেসিং কার পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটির মডেল ‘এস ড্রাইভ ২৩আই’, ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি এবং এটি ২০০৯ সালের মডেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গাড়িটির সঠিক মডেল সাল, চেসিস নম্বর, ভিআইএন এবং আমদানির বৈধতা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও কারিগরি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
এনবিআর জানায়, বিএমডব্লিউ গাড়িটির শুধু সামনের অংশ পাওয়া গেছে। এর বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছে বা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চালানটিতে পাওয়া পাঁচটি ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ প্যাক করে রাখা হয়েছিল। এর পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।
ঘোষণায় কারচুপি, শুল্ক-কর ফাঁকি ও খণ্ডিত গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা চালানে এনে পরে পুনরায় সংযোজনের কোনো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে কি না— এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের ঘোষণার আড়ালে গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির চেষ্টা শনাক্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
মন্তব্য করুন