মোঃ মনির হোসেন মন্ডল, সাভারঃ
আশুলিয়ায় স্কুল ছুটির পর গেটের সামনে থেকে ৮ বছরের শিশু সাইমকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। শিশুটিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হলেও টাকা দেওয়ার আগেই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম।
পুলিশ জানায়, গত ৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী পশ্চিমপাড়া গোচারটেক এলাকায় আলহাজ আব্দুর রশিদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেটের সামনে থেকে স্কুল ছুটির পর প্লে-শ্রেণির ছাত্র সাইমকে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা মো. নাছির উদ্দিন আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক তত্বাবধানে এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
একপর্যায়ে তদন্তে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে অপহরণকারীদের অবস্থান ময়মনসিংহে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানাধীন মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার নেওকা এলাকার মৃত গফুর মৃধার ছেলে মো. নাদিম ওরফে হৃদয় (৩৩) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তার (৩১)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু সাইমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ময়মনসিংহে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপহরণের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, শিশুটিকে কোথায় এবং কীভাবে রাখা হয়েছিল, পাশাপাশি মুক্তিপণ দাবির পেছনে তাদের পরিকল্পনা কী ছিল- এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশের এই অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে শিশুটির পরিবারে। তবে স্কুলগেট থেকে একটি শিশুকে অপহরণ করে অন্য জেলায় আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন