জেলার সদর থানার বেগুনবাড়ী ব্লুইস গেট এলাকার খাল থেকে ড্রামে ভরা বস্তাবন্দি অবস্থায় নিরঞ্জন ধর (৫৪) নামের এক স্বর্ণ কারিগরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী সবিতা রানী ধরের কোতোয়ালি থানায় করা হত্যা মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি শামীম মিয়াকে (৩৮) গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত শিল ও বটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ রোববার দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান।
মূলত অনৈতিক কাজের একটি ভিডিও ধারণ করে টাকা দাবির ঘটনায় জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
নিহত নিরঞ্জন ধর (৫৪) পেশায় স্বর্ণের কারিগর ও চারটি অটোরিকশার মালিক। তার চারটি অটোরিকশা ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকার সততা গ্যারেজে রাখা হতো। ওই গ্যারেজের ম্যানেজার ছিলেন আসামি শামীম। সে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৃষ্টপুর এলাকার জালাল মিয়ার ছেলে।
পিবিআই জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ সদর থানার বেগুনবাড়ী ব্লুইস গেট এলাকার খালের পানির নিচে একটি ড্রাম থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিরঞ্জন ধরের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সবিতা রানী ধর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআই তথ্য প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে শামীমকে শনাক্ত করে।
পরে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকার বটতলার সর্দার মার্কেট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি শ্যালক মাসুদ রানার ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।
হত্যার পর মরদেহ চটের বস্তায় ভরে দুই পাশে বেঁধে একটি বড় নীল রঙের চালের ড্রামে রাখেন শামীম। পরে মরহেদ সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন। এ কাজে সহায়তার কথা বলে অটোরিকশাচালক হানিফ মিয়াকে বাসার মালামাল সরানোর জন্য ডেকে আনেন। ২২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে ড্রামটি একটি ইজিবাইকে তুলে বেগুনবাড়ী ব্লুইস গেট এলাকার খালে ফেলে দেন।
পিবিআই জানায়, গ্রেফতারের পর শামীম হত্যার দায় স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
আজ রোববার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তার দেখানো মতে ভাড়া বাসা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত শিল ও বটি উদ্ধার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। সদর দপ্তরের সহযোগিতা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত প্রধান আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
মন্তব্য করুন