সায়মন খান, লিড নিউজ ২৪:
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইরান ইস্যু নিয়ে চলমান উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে একটি বিরল ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।
এই শীর্ষ সম্মেলনটিতে মূল আলোচনার চেয়ে প্রদর্শনীর দিকেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে একটি বড় সুখবর এসেছে—ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তিটি নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার বিমান থেকে নামার পর, ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাকে এবং তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানান। এ সময় একটি সামরিক ব্যান্ড দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে। এরপর দুটি বি-১ বোমারু বিমানের ফ্লাইওভার অনুষ্ঠিত হয়।
মে মাসে যখন ট্রাম্প বেইজিং সফর করেছিলেন, তখন তাকে বিমানবন্দরে এমন কোনো বিশেষ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প কোনো অসন্তোষ প্রকাশ করেননি। তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মনে করি এটি একটি দারুণ অভ্যর্থনা ছিল এবং তারা এর প্রশংসা করবে”।
ইরান, এআই ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা
ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্পের সাথে শি জিনপিংয়ের এটি তৃতীয় বৈঠক। এই সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো ছাড়াও ওভাল অফিসে আলোচনা এবং হোয়াইট হাউসে একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল সকালে হোয়াইট হাউসে চা পানের পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই পরাশক্তির মধ্যে বিরাজমান অস্থির সম্পর্ক শান্ত রাখা। ইরান ইস্যুটিও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন।
বাণিজ্য যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে শি জিনপিংয়ের সফরসঙ্গীদের মধ্যে কোনো চীনা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) না থাকায় ব্যবসায়িক চুক্তির আশা ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে আজকের নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
এআই প্রযুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
এবারের সম্মেলনে এআই একটি বড় ভূমিকা পালন করবে। কারণ এআই প্রযুক্তি মানবতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন সতর্কতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই এআই প্রযুক্তিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।
ট্রাম্পের এই উষ্ণ অভ্যর্থনা দেশের ভেতরে অনেক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার বলেছেন, “আমাদের প্রধান সেনাপতির মনে রাখা উচিত যে তার অতিথি একজন নিষ্ঠুর, অনির্বাচিত এবং অত্যাচারী স্বৈরশাসক”।
তবে ট্রাম্পের জন্য এই সফরটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো থেকে মনোযোগ সরানোর একটি বড় সুযোগ হতে পারে, বিশেষ করে যখন ইরানে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মন্তব্য করুন