সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন দেওয়ানি আদালতের পুকুরপাড়ে সরকারি জায়গায় দেওয়া সব লিজ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ‘নবী নগর সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আদালত চত্বরের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে দ্রুত সব লিজ বাতিল করে আদালত চত্বরের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হোসেন শান্তির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নবী নগর প্রেসক্লাবের সাবেক তিন সভাপতি আবু কামাল খন্দকার, মাহবুব আলম লিটন, জালাল উদ্দিন মনির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কান্তি কুমার ভট্টাচার্য ও নবী নগর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শাহীন রেজা টিটু। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে সংহতি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আদালত কোনো দাতব্য কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয় যে, সামান্য অর্থ লাভের জন্য লিজের ওপর তাদের নির্ভর করতে হবে।
আদালতে আগত বিচারপ্রার্থীসহ আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং চলাচলের সুবিধা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। তাই আদালত চত্বরকে সর্বদা দখলমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, লিজগ্রহীতাদের অনেকেই নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না। লিজের শর্ত ভঙ্গ করে লিজ নেওয়া জায়গায় নিজেরা ব্যবসা না করে, অগ্রিম মোটা অঙ্কের অর্থ ও মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে দোকান ভাড়া দিয়ে নির্বিঘ্নে টাকা কামাচ্ছেন।
এসব কারণে শর্ত ভঙ্গকারী আদালতের চতুর্পাশের সব লিজ দ্রুত বাতিল করে চত্বরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
জানা গেছে, গত ২৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে ইস্যুকৃত ‘আদেশ নং-০৭’ (স্মারক নং- এন ৩০৮(১), নবীনগর সিনিয়র সিভিল জজ চৌকি) অনুযায়ী, আদালতের পূর্ব-উত্তর কোণায় বটগাছের পাশে ১২ ফুট দীর্ঘ এবং ১০ ফুট প্রস্থের একটি খালি জায়গা ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে অজিত সূত্রধরকে বাৎসরিক মাত্র ৬ হাজার টাকায় লিজ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই জায়গার বর্তমান বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি।
এর আগে গত কয়েক বছরে আদালত কর্তৃপক্ষ তাদের পুকুরপাড়ে প্রায় ৩০টি দোকান লিজ দেয়।
সর্বশেষ গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) লিজগ্রহীতা অজিত সূত্রধর তার লিজের জায়গায় দোকান নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাতে তীব্র বাধা দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ এসে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
এই ঘটনার জের ধরেই আজকের এই মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে নবীনগর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম লিটন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজকের এই মানববন্ধনের পর আদালত কর্তৃপক্ষ পুকুরপাড়ের চারপাশে দোকানপাটের নামে দেওয়া সব লিজ দ্রুত বাতিল না করলে, অচিরেই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে লিজগ্রহীতা অজিত সূত্রধর বলেন, “সরকারি নিয়ম-নীতি মেনেই আমি লিজ এনেছি।
সুতরাং এখানে আমার দোষ কোথায়? এর আগে তো এখানে সাংবাদিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরাসহ বহু মানুষকে দোকান লিজ দেওয়া হয়েছে। তখন তো কেউ আজকের মতো এভাবে প্রতিবাদ করেনি। তাহলে আমার অপরাধটা কোথায়?”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নবী নগর দেওয়ানি আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ মো. মিজানুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সর্বশেষ আদালতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকাল বুধবার নবীনগর আদালতের পুকুরপাড়ের বিতর্কিত এই ‘লিজ’ হয়তো বাতিল হয়ে যেতে পারে!
মন্তব্য করুন