ডেক্স নিউজ
সাভারে এক নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে মো. মাসুম ইসলামকে কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পিবিআই ঢাকা জেলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
পিবিআই জানায়, গত ২ জুলাই সাভার থানার বড়দেশী এলাকায় ভাড়া বাসায় ৩৯ বছর বয়সী মোছা. শারমিন আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক টিম। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. শাওকাত হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে ৮ জুলাই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা।
পিবিআইর দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে গত ১৪ জুলাই কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে অভিযুক্ত মাসুম ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, অভিযুক্ত মাসুম ইসলাম প্রজাপতি পরিবহনের লাইনম্যান হিসেবে কাজ করতেন এবং সাভারের কাতলাপুর এলাকায় তার বাবার চায়ের দোকানেও সহযোগিতা করতেন। ওই দোকানের পেছনের একটি বাসায় ভিকটিম থাকতেন। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআইর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন অভিযুক্ত ভিকটিমের বাসায় যান। একপর্যায়ে বিরোধের জেরে ভিকটিমকে তার ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত, যার মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের আলামত ও একটি সিগারেটের খোসাও রয়েছে, জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ বলেন, ঘটনার পরপরই ক্রাইম সিন টিম তদন্ত শুরু করে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন