(নীলফামারী) প্রতিনিধি:‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে নীলফামারীর ডিমলায় মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপিকা সেতারা সুলতানা, গোলাম রব্বানী প্রধান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম লিটন, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও রক্তাক্ত অধ্যায়। এদিন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। তাঁর আত্মত্যাগ দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং চলমান আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। একই দিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান।
বক্তারা আরও বলেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় সারা দেশে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সভায় বক্তারা ডিমলা উপজেলায় আন্দোলনে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রস্তুত করে তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিসরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভা শেষে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ডিমলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
মন্তব্য করুন