সাধন সাহা জয়ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ‘নীলাচল নিবাসায় নিত্যায় পরমাত্মনে। বলভদ্র সুভদ্রাভ্যাং জগন্নাথায় তে নমঃ।’ আজ বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘রথযাত্রা’ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উদযাপিত হচ্ছে।রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি সাম্যের বার্তাও বহন করে।
ভারতের পুরীর শ্রীজগন্নাথ ধামের শত বছরের এই ঐতিহ্য অনুযায়ী, ভগবান জগন্নাথ বছরে একবার তাঁর বড় ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে রথে চড়ে গুন্ডিচা মন্দিরে (মাসির বাড়ি) যাত্রা করেন।রথযাত্রার দড়ি টানার ক্ষেত্রে কোনো বর্ণভেদ বা জাতিভেদ থাকে না; ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই একই রশি ধরে টানতে পারে। এই উৎসব ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে ঐক্যের শিক্ষা দেয়।সকাল থেকেই নবীনগরের বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের সমাগম বাড়তে থাকে। বিকেলে শ্রী শ্রী নামহট্ট মন্দির ইসকন এবং জগন্নাথ মন্দির ইসকন থেকে পৃথক পৃথক রথযাত্রা বের করা হয়।
রথযাত্রার মূল আকর্ষণ ছিল রশি টেনে রথ এগিয়ে নেওয়া। এ সময় সর্বস্তরের ভক্তরা রশি ধরে জগন্নাথ দেবকে স্পর্শ করে নিজেদের পাপ মোচনের প্রার্থনা করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, জগতের নাথ জগন্নাথ দেব আজ মানুষের মাঝে নেমে এসেছেন বিশ্ব চরাচর ও ভক্তদের রক্ষা করতে।নবীনগর পৌর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রথযাত্রাগুলো।
উৎসবকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।রথযাত্রার পুরো পথজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।
উৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ পূজা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করেছেন। রথযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ লাভে রথ টেনে নিয়ে যাওয়া এক মহা সৌভাগ্যের বিষয়। এ উপলক্ষে মন্দিরে দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত মহাপ্রসাদের আয়োজন করা হয়, যা ভক্তরা পরম ভক্তি ও আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন।শান্তিপূর্ণভাবে রথযাত্রা সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। পুরো নবীনগর আজ ‘জয় জগন্নাথ, জয় বলরাম, জয় সুভদ্রা মহারাণী’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন