নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে “আজকের কন্ঠ”নামক একটি পেইজ থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় বিএনপির নেতা কর্মীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন একজন ত্যাগী নেতা, তিনি একজন সাদা মনের মানুষ। একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার কোন সুস্থ্য মানুষই করতে পারে না।
এ ঘটনায় গত কয়েকদিন যাবত এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকা-১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ফ্যাসিস আওয়ামী লীগের দোসররা এস এম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মুলক অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ বলছেন,
নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ তুরাগে একটি মিছিল শেষ করে নৌকাযোগে নদী পথে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় এবং যারা সাঁতার না জানে তাদের মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনাকে আওয়ামীলীগ ন্যক্করজনকভাবে বিএনপি উপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছেন আওয়ামিলীগ মানেই অপপ্রচার, আওয়ামিলীগ মানেই ষড়যন্ত্র। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান,
এরা আওয়ামী লীগ এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। ঢাকা -১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বিরুদ্ধে অপপ্রচার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই।
নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল ২৩ জুন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২২ জুন তুরাগের বেরিবাধ এলাকায় মিছিল করার উদ্দেশ্যে ট্রলারে করে আশুলিয়া থেকে আওয়ামী ছাত্রলীগের কর্মীরা রওনা দেয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পুলিশ সদস্যরা তীরে থাকা মিছিলকারীদের ধাওয়া দেয়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ট্রলারে থাকা ছাত্র লীগের কর্মীরা যে যার মতো তুরাগ নদীতে ঝাপ দেয়।
তারা আরো জানান, পুলিশ সদস্যরা টলারের নোঙ্গর টেনে ধরলে মিছিলকারী কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেয়।
পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে প্রায় ৭ জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব মোহাম্মদ হাবিব হাসান এর ঘনিষ্ঠ সহচর।
আশুলিয়ার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী আওয়ামী লীগের মিছিলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তুরাগ নদীতে পড়ে যারা মারা গিয়েছে তাদের কেউই সাঁতার জানতো না। সাঁতার না জানার কারণে তারা পানিতে ডুবে মারা যায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসররা এই ঘটনাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনে বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগাণ্ডা ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
একজন সাদা মনের মানুষ বিএনপি নেতা এস এম জাহাঙ্গীর এমপির বিরুদ্ধে এমন প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচারের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ষড়যন্ত্রকারীরা মূল ঘটনাকে আড়াল করে
“Ajker Kantho – আজকের কন্ঠ” নামে লীগের গুজব মিডিয়া পেইজ থেকে ঢাকা- ১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীরের ছবি যুক্ত করে ফটোকার্ড করে এবং তারা ঘটনাটিকে “তুরাগ ট্র্যাজেডি” নাম দিয়ে চালিয়ে দেয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “Ajker Kantho – আজকের কন্ঠ” পেইজ থেকে বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এসব অপপ্রচার করেছে!
বিভিন্ন সোর্সের তথ্য থেকে অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই করে জানা যায়, “আজকের কন্ঠ” পেইজটি আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা নিউজ পেইজ।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা বলেন,আশুলিয়ার ঘটনাটি নিয়ে গুজব,প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারের বিষয়ে
জুলাই আন্দোলনকারী কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন,
আমাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু যারা আমাদের ভাই-বোনদের পাখির মতো গু-লি করে মেরে-ছে সেই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ আছি,ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থাকবো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২২ জুন ২০২৬ বেলা আনুমানিক ২টা ৩০ থেকে ৩টার মধ্যে তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিকের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী নৌকায় করে আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট থেকে আশুলিয়া বাজার ঘাটে আসার চেষ্টা করেন।
রুস্তমপুর ঘাট থেকে আম্বর আলীর মালিকানাধীন একটি নৌকায় মাঝি অজয়কে নিয়ে তারা ঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। ঘাটে পৌঁছে নৌকা থেকে নামার চেষ্টা করলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া দেন। এ সময় তারা দ্রুত নৌকায় উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। তাড়াহুড়ায় নৌকার নোঙর তুলতে ব্যর্থ হন।
পুলিশ নৌকার নোঙর ধরে ফেললে আতঙ্কিত হয়ে নৌকায় থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে। বাকিরা সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করে।
পুলিশ জানায়, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ২ জন পানিতে তলিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি টের পাওয়া যায়নি। পরদিন ২৩ জুন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকায় মরদেহ বিকৃত হয়ে যায়।
নিহতরা হলেন: সুমন,ঠিকানা: তুরাগ, ঢাকা।
২,মো. আরিফুল ইসলাম,পিতা আব্দুল হাই, গ্রাম আরিজর হরিশ্বর, থানা কাউনিয়া, জেলা রংপুর।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আরও কয়েকজনের মৃত্যু ও নিখোঁজের দাবি করে প্রচার চালানো হচ্ছে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে ৭ জন নিখোঁজ, ৪ জনের লাশ উদ্ধার ও আরও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সরকারি দলের এমপি ও পুলিশকে দায়ী করে হিংসাত্মক প্রচারণাও চলছে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ বলছে, স্বশরীরে তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার বা অধিকসংখ্যক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তে অনলাইনে প্রচারিত অতিরঞ্জিত হতাহতের তথ্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ঘটনায় আটক ৭ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানা পুলিশ।
মন্তব্য করুন