আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিতে টেকসই কৃষি চর্চার জন্য সুপারিশ প্রণয়ন করেছেন দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞগণ।
তারা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা পূরণে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি অপরিহার্য হলেও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার উপায় খুঁজতে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষির নিবিড়তা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
আজ সার্ক কৃষি কেন্দ্র আয়োজিত এই ভার্চুয়াল সভায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ উল্লেখ করেন, মাটির উর্বরতা বজায় রাখা, পরাগায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রতিবেশগত ভারসাম্য বৃদ্ধিতে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা টেকসই কৃষি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য তুলে ধরে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ক্রপস) ড. সিকান্দার খান তানভীর দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষিজমির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি কৃষির নিবিড়তা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞ এবং ইউএনডিপি ও এফএও’র আন্তর্জাতিক পরামর্শক ড. পশুপতি চৌধুরী। তিনি কৃষির নিবিড়তা বৃদ্ধির ফলে প্রতিবেশ ব্যবস্থা, পরাগবাহক প্রাণী, মাটির জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে তিনি টেকসই কৃষি চর্চা, ফসলের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন কৃষি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরিপূরক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। গবেষণা সহযোগিতা জোরদার, তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তিতে অধিক বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন