সাধন সাহা জয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবী নগর উপজেলার কাইতলা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সড়ক পাড় গোয়ালী এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব চলছে।
মুকসুদ মিয়ার ছেলে প্রভাবশালী হামদু মিয়া সরকারি সড়ক ও খালের জায়গা দখল করে আরসিসি পিলার দিয়ে স্থায়ী দেয়াল ও ঘর নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে তিনি এই অবৈধ কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইটের গাঁথুনি ও আরসিসি পিলার দিয়ে দিনের বেলা সহ রাতারাতি গড়ে তোলা হচ্ছে স্থায়ী স্থাপনা।
সরকারি রাস্তা ও খাল জনগণের সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও প্রভাবশালী হামদু মিয়া তা নিজের দখলে নিয়ে নিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাধা দিলে তিনি উল্টো হুমকি-ধমকি দেন। এমনকি তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য, “আমি সরকারি সড়ক ও খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা তুলেছি, দেখা যাক কী হয়!”
এলাকাবাসীর দাবি, কিছু দিন আগে স্থানীয়দের বাঁধার মুখে কাজ কিছুটা বন্ধ থাকলেও বর্তমানে তা দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তাদের শঙ্কা, হামদু মিয়ার এই বেপরোয়া আচরণের ফলে এলাকায় অবৈধ দখলের মহোৎসব শুরু হতে পারে।
একজন এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, “এই দোকান তোলার অনুমতি পেতে নায়েবকে প্রায় ৪ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সাংবাদিক ও প্রভাবশালীদের নানা অংকের টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন হামদু মিয়া।”
অভিযুক্ত হামদু মিয়ার এমন ধৃষ্টতার বিষয়ে কাইতলার ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) বজরুল হক সাগর মুঠোফোনে জানান, “হামদু মিয়া মিথ্যা কথা বলছেন। দেয়াল তোলার সময় তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য তাকে নোটিশও প্রদান করা হয়েছে।”
বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ও প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত হতে নবী নগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সচেতন মহলের দাবি, সরকারি রাস্তা ও খাল দখলের কারণে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।

এছাড়া রাস্তার স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারি জমি দখলমুক্ত না করলে স্থানীয় জনজীবন আরও চরম ভোগান্তিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের উচ্ছেদের নোটিশ কি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি অবৈধ দখলদার হামদু মিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন