জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।
কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সরকারি খাদ্য মজুত শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই কার্যক্রম শুরু হলো।
আজ বুধবার সকালে উপজেলা সাইলো চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুলতানা পারভীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা।
ডুমুরিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মেহতাব হোসেন এবং কৃষক প্রতিনিধি মো. আব্দুল কুদ্দুস, শেখ আব্দুল গাফফার ও জান্নাতুল ফেরদৌসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি অধিদপ্তরের বার্ষিক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী, শুধু ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে লটারিতে নির্বাচিত নিবন্ধিত কৃষকরাই তাদের উৎপাদিত ধান সরকারি সাইলোতে বিক্রি করতে পারবেন।
ধানের গুণমান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আর্দ্রতার মাত্রা ১৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ধান অবশ্যই পরিষ্কার, পুষ্টিকর এবং পোকামুক্ত হতে হবে। স্বচ্ছতা ও নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করে দাম সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীর সম্পৃক্ততা বরদাশত করা হবে না। সরকার কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দালালদের ওপর নির্ভর না করে তাদের সরাসরি সরকারি সাইলোতে ধান নিয়ে আসা উচিত। কৃষকদের যেকোনো ধরনের হয়রানির বিষয়ে অবিলম্বে জানানোর আহ্বান জানান।
তিনি কৃষকদের গুদামে আনার আগে চাল শুকিয়ে ও পরিষ্কার করতে এবং সংরক্ষণজনিত সমস্যা এড়াতে আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের নিচে রাখতেও পরামর্শ দেন।
তিনি জানান, বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক কৃষকের জন্য একটি নির্দিষ্ট সীমা (সাধারণত প্রায় এক টন) নির্ধারণ করা হয়েছে। যাতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা আরও বেশি সুযোগ পান এবং বড় ব্যবসায়ীরা কৃষকের নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত ধান সরবরাহ করতে না পারে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র বা কৃষি কার্ডের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে, যাতে একজন কৃষক একাধিকবার ধান সরবরাহ করতে না পারে।
অনুষ্ঠান শেষে ইউএনও সরকারি গুদাম প্রাঙ্গণে একটি গাছ রোপণ করেন।
মন্তব্য করুন