নিউজ ডেস্ক
৩ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৩ জন

সুনামগঞ্জে রোদেলা আকাশ, ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণি

হাওর বেষ্টিত জনপদ সুনামগঞ্জ। বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাসের সাথে যুদ্ধ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের বসবাস। এবারও টানা বৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাওরের কৃষকরা সঠিক সময়ে ধান কাটতে পারেননি। টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। ধান কাটলেও সুনামগঞ্জের হাওরে রোদের দেখা মিলছিল না। বেশ কয়েকদিন টানা বৃষ্টির পর আজ আকাশে রোদ দেখা দেওয়ায় জেলার কৃষাণ-কৃষাণিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আজ হাওর ঘুরে দেখা যায়, ভেজা ধান শুকাতে খলায় খলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণিরা। অনেকে আবার বুক সমান পানিতে ভিজে পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটছেন। একসাথে সবার ধান কাটা শুরু হওয়ায় এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। আবার শ্রমিক পাওয়া গেলেও তাদের মজুরি অনেক বেশি।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের কৃষক মনিন্দ্র কুমার দাস বাসসকে বলেন, জোয়াল ভাঙা হাওরে ১২ কেয়ার জমিতে বোরো চাষ করেছিলাম। জমির পাকা ধান এখন পানির নিচে। পানির নিচ থেকেই ধান কাটছি। নিজেকে সান্ত¦না দিচ্ছি এই বলে যে, ‘ধান যাই পাই, গো-খাদ্য তো পাবো’।

গৌরারং গ্রামের কৃষক আব্দুল গফুর জানান, তিনি খরচার হাওরে ৪ কেয়ার জমি চাষ করছিলেন। জমিগুলো এখন পানির নিচে।

আহমদাবাদ গ্রামের হনুফা বেগম বাসসকে বলেন, আমার পরিবারে ৯ জন সদস্য। পাকা ধানের জমিগুলো এখন পানির নিচে। বছর চলবে কী করে?

সরেজমিনে দেখা যায়, হাওড়জুড়ে এখন সোনালি ধানের সুবাস থাকার কথা থাকলেও বাতাসে ভাসছে পচা ধানের গন্ধ। রোববার ও সোমবার আকাশে কিছুটা রোদের দেখা মিললেও কৃষকদের কপাল থেকে দুশ্চিন্তার ভাঁজ সরেনি। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতায় খলায় রাখা ধানে চারা গজিয়ে পচন ধরেছে। জেলাজুড়ে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা। কৃষকেরা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে ধান বিছিয়ে রোদে শুকাচ্ছেন। হাওরের পাশে খলায় খলায় নারী এবং পুরুষ ধান শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

হালির হাওরের বাসিন্দা ওলিউল্লাহ বলেন, হাওরে রোদ উঠেছে। ভেজা ধান শুকাচ্ছি। অনেক ধানে পচন ধরেছে। কয়েকদিন রোদ হলে কৃষকরা খরচের টাকা তুলতে পারতেন।

ওয়েজখালি গ্রামের কৃষক ওয়েছ মিয়া বলেন, আকাশে কড়া রোদ। এখন খুশিতে খলায় ধান শুকাচ্ছি। কিন্তু শঙ্কা কাটেনি। ধানের রং নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু ধান রক্ষা পেলেও ধারদেনা পরিশোধ করতে পারবো না। এখনও খোরাকির ধান ঘরে উঠেনি।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। হাওর ও নন হাওরে ধান কর্তন হয়েছে ৬২ শতাংশ। ২০ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক বাসসকে বলেন, হাওরে ভেজা ধান শুকানোর জন্য মিল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোদে হাওরের কৃষকরা ধান শুকাচ্ছেন। আমরা কৃষকদের পাকা ধান দ্রুত কাটতে বলেছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জে এখনো বন্যার শঙ্কা আছে। টানা বৃষ্টি হওয়ায় বাঁধগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেবিচকের উদ্যোগে বিমান নিরাপত্তা জোরদারে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সরকার সুষম উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতায় কাজ করে যাচ্ছে : দীপেন দেওয়ান

সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জে রোদেলা আকাশ, ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণি

কিশোরগঞ্জে আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে

ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা প্রশ্নে রুল

গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে : চিফ হুইপ

মে মাসের ৩ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৫ মিলিয়ন ডলার

কলমাকান্দায় সরকারি খাদ্য গুদামে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

নওগাঁর রানীনগরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, ৩ লাখ টাকা জরিমানা

১০

নওগাঁয় ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল

১১

বর্তমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলার মত কিছু নেই: আইনমন্ত্রী

১২

নীলফামারীতে নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক

১৩

মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা যৌথ অভিযান চালাচ্ছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৪

বন্ধ শিল্পকারখানা চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

১৫

পুলিশ পরিদর্শক মোস্তফা কামালের স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ

১৬

নাহিদের বোলিং ও হার্ডির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন পেশাওয়ার জালমি

১৭

ধোবাউড়ায় ধান ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

১৮

কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানে বিভিন্ন মামলার ৮ আসামি গ্রেপ্তার

১৯

চোখ বাঁধা অবস্থায় মাস্ক পরে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন মঠবাড়িয়ার ছেলে সিফাত

২০