নওগাঁ রানীনগর প্রতিনিধি:
মো: নেকীদুল ইসলাম নিকঃ
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার চককুজাইল মৌজার প্রায় ৩৭ একর সরকারি ভিপি (অর্পিত) সম্পত্তি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
মামলার বাদী মোছা. সাহিদা সুলতানা জানান, সরকারের অর্পিত সম্পত্তি রক্ষার্থে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিলতা ও ভুয়া কাগজপত্রের কারণে সরকারি সম্পত্তিগুলো কার্যত বেহাত হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। দ্রুত তদন্ত ও মামলার নিষ্পত্তি হলে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্থানীয় শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় পরিবার সরকারি নিয়মে লিজের মাধ্যমে এসব জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবে। এতে সরকারও প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, উপজেলার চককুজাইল মৌজার ৩৭ একর ভিপি সম্পত্তি নিজেদের নামে দলিলমূলে পাওয়ার দাবি করে কয়েকজন ব্যক্তি ২০১২ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। তদন্তে দেখা যায়, দাবিকৃত জমির মধ্যে কুজাইল বাজার, খেলার মাঠ, মন্দির ও পুকুরসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও জনসাধারণের ব্যবহৃত সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিপুল পরিমাণ জমি হস্তান্তরের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দলিল যাচাই-বাছাই শুরু করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, প্রথম দলিলের গ্রহীতা হিসেবে যাঁর নাম ব্যবহার করা হয়েছে, বাস্তবে ওই নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে একাধিক দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের তথ্য দেখানো হলেও সেসবের মধ্যেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এমনকি কিছু ব্যক্তির নামে দলিল করা হয়েছে, যাদের জন্মতারিখ দলিল সৃষ্টির তারিখের পরের বলে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসে অনুসন্ধান করে ওই দলিলগুলোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ভুয়া দলিল রেজিস্ট্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন