তরিকুল ইসলামঃ
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সারাদেশের ন্যায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শার্শা উপজেলা শাখার আয়োজনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস (৩ মে ২০২৬)উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ৪ দফা দাবিতে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ৩ মে ২০২৬ ইং রবিবারে শার্শা উপজেলা পরিষদ এর সামনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস (৩ মে ২০২৬)উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ৪ দফা দাবিতে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শার্শা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোঃ আসাদুজ্জামান (আসাদ) এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মোঃ খোরশেদ আলম।
এছাড়াও উক্ত মুক্ত সাংবাদিকতা দিবস অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত বাংলাদেশ প্রেসক্লাব শার্শা উপজেলা শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল্লাহ ,সদস্যগন মোঃ তরিকুল ইসলাম,ইমরান হোসান হৃদয়,আবু সাঈদ,আবু মুসা ,হৃদয়,সাজিদ হোসেন ও মানবাধিকার কর্মী মাহবুব,আলামিন প্রমুখ।
উক্ত মুক্ত দিবসে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
একই সঙ্গে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
এসময় শার্শা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোঃ আসাদুজ্জামান (আসাদ)বলেন,
স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে, সত্য উদঘাটন করে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসঙ্গতি তুলে ধরে জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এই মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় সাংবাদিকদের নানা ধরনের ঝুঁকি, হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়।
সাংবাদিকদের অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি, পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দেশব্যাপী প্রায় ৭০০ শাখা সংগঠন নিয়ে গঠিত দেশের সর্ববৃহৎ সাংবাদিক সংগঠন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নিরলসভাবে
কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী ৩ মে ‘বিশ্ব মুক্তসাংবাদিকতা দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব যশোরের শার্শা উপজেলা শাখা দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক ফরিদ খানের প্রস্তাবে নিম্নোক্ত ৪ দফা দাবি উত্থাপন করছে-
দাবিসমূহঃ ১। শিক্ষা ব্যবস্থায় সাংবাদিকতা অন্তর্ভুক্তিকরণ:
দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিকতা বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি, গণমাধ্যম ও নৈতিক
সাংবাদিকতা সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে।
২। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:
সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে তারা নির্ভয়ে ও
স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন।
৩। তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনের জন্য সম্মানী প্রদান।
অনিয়ম, দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম ২৫% তথ্য
সম্মানী নির্ধারণ ও প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
৪। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি ও বাস্তবায়ন:
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত আরও সুদৃঢ় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
গ্রহণ করতে হবে।
উপরোক্ত দাবিসমূহ বাস্তবায়িত হলে দেশের সাংবাদিক সমাজ আরও দায়িত্বশীল, দক্ষ ও সাহসী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস।
অতএব, উপরোক্ত বিষয়সমূহ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপনপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি সদয় দৃষ্টি ও আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করে আলোচনা সভাটি সমাপ্ত হয়।
মন্তব্য করুন