খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এবার কোরবানির জন্য গবাদিপশুর কোন ঘাটতি নেই। বরং চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬০টি পশু।
আসন্ন ঈদুল আযহায় বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৯টি। সেখানে পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৯টি। দশ জেলার ১ লাখ ৩০ হাজার ৪২জন খামারী উল্লিখিত পশু লালন-পালন করেছেন। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে খামারীরা পারিবারিক ও খামার পর্যায়ে তাদের গবাদিপশুর যত্ন নিচ্ছেন। বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর খুলনার পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সর্বশেষ নিরাপদ মাংস উৎপাদনে জেলা ভিত্তিক কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর প্রাপ্যতা ও চাহিদার বিবরণ ২০২৬- এ উল্লেখ করা হয়। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এবার কোরবানির জন্য গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৯টি। সেখানে পশুর প্রাপ্যতা রয়েছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৯টি। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬০টি। মোট পশুর মধ্যে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৩২টি ষাঁড়, ৩২ হাজার ২৭টি বলদ এবং ৮২ হাজার ৩০২টি গাভীসহ মোট গরু ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬১টি। এছাড়া ৪ হাজার ৮৯টি মহিষ, ৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৭০টি ছাগল, ৫১ হাজার ১৭৩টি ভেড়া এবং অন্যান্য পশুর সংখ্যা ২১৬টি।
এই সূত্র জানান, খুলনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৬টি, প্রাপ্যতা ১ লাখ ৬৩ হাজার ২২৯টি, উদ্বৃত্ত ৮ হাজার ৭৭৩টি, বাগেরহাট জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৭ হাজার ৮৮৯টি, প্রাপ্যতা ৮৪ হাজার ৯৬৭টি, উদ্বৃত্ত ৭ হাজার ৭৮টি, সাতক্ষীরা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ১ হাজার ৬৪০টি, প্রাপ্যতা ১ লাখ ২০ হাজার ২২টি, উদ্বৃত্ত ১৮ হাজার ৩৮২টি, যশোর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ১২৮টি, প্রাপ্যতা ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি, উদ্বৃত্ত ১৪ হাজার ৮৪৯টি, ঝিনাইদহ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪২০টি, প্রাপ্যতা ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৭টি, উদ্বৃত্ত ৫৬ হাজার ৯৭৭টি,মাগুরা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৬২ হাজার ৫০৮টি, প্রাপ্যতা ৭৬ হাজার ৯৭৪টি, উদ্বৃত্ত ১৪ হাজার ৪৬৬টি, নড়াইল জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৩৯ হাজার ৭৩৩টি, প্রাপ্যতা ৪৫ হাজার ৪৯৭টি, উদ্বৃত্ত ৫ হাজার ৭৬৪টি, কুষ্টিয়া জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ২৩ হাজার ২৬০টি, প্রাপ্যতা ২ লাখ ১০ হাজার ৯৩৮টি, উদ্বৃত্ত ৮৭ হাজার ৬৮৭টি, চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩১ হাজার ১৮১টি, প্রাপ্যতা ২ লাখ ২ হাজার ২৩৯টি, উদ্বৃত্ত ৭১ হাজার ৫৮টি এবং মেহেরপুর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি, প্রাপ্যতা ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি। এ জেলায় চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ৮২ হাজার ৩৩৫টি।
খুলনার রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা গ্রামের এক খামারের মালিক সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, পশুখাদ্যের দাম বাড়ার কারণে এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক মো. দিদারুল আলম বলেন, তিনি প্রায় এক বছর ধরে শুধু ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি ও স্থানীয় পশুখাদ্য ব্যবহার করে সাতটি দেশি গরু পালন করছেন, যাতে পশুগুলো সুস্থ থাকে এবং ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়।
একই উপজেলার লিয়াকত হোসেন নামে আরেকজন কৃষক তার পারিবারিক পশুপালনের ঐতিহ্য ধরে টিপনা গ্রামে তার ভাইদের সাথে আট কাঠা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে খামার শুরু করেন। তাদের খামারে এখন গরুর পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি ছাগলও রয়েছে।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর খুলনার পরিচালক ডা. মো. গোলাম হায়দার বাসসকে বলেন, এখন স্থানীয় পশু দিয়েই শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে, আরও উদ্বৃত্ত থাকবে। যেহেতু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত তাই দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
“ঈদুল আজহার আগেই বিভাগের ১০টি জেলা এবং খুলনা শহরের অস্থায়ী পশুর হাটে বিপুল পরিমাণে কোরবানির পশু আনা হবে। ফলে খুলনার চাহিদা মেটাতে অন্য দেশ থেকে পশু আমদানি করার কোনো প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিভাগে এ বছর নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। ফলে তারা নতুন নতুন খামারে গবাদিপশু উৎপাদন করেছেন। এ কারণে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ, উৎপাদন বা প্রাপ্যতা বেড়েছে।
তিনি বলেন, এবার পশুর বিশেষত্ব হচ্ছে- মিডিয়াম সাইজের। কারণ বড় সাইজের পশু বিক্রি এবং সঠিক দাম পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।আর মাঝারি সাইজের পশুর দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদাও বেশি থাকে। ফলে এবার খুলনাঞ্চলে বড় পশুর তুলনায় মাঝারি আকারের পশু উৎপাদনের প্রতি খামারীরা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
ডা. মো. গোলাম হায়দার আরও বলেন, স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এই পশুগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে। বিশেষ করে খুলনার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পশু চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও আলমডাঙ্গা এলাকা থেকে ঢাকা ও চট্রগ্রামের বাজারে সরবরাহ করা হবে।কোরবানিতে নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে উঠান বৈঠক এবং মতবিনিময় সভাসহ বিভিন্নভাবে খামারীদের সচেতন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন