নিউজ ডেস্ক | লিড নিউজ ২৪
বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তিতে নতুন চমক দেখিয়েছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক উন্মোচন করেছেন নতুন প্রজন্মের স্পোর্টস কার ‘টেসলা রোডস্টার’। গাড়িটি শুধু সড়কে দ্রুতগতিতে চলতে পারবে না, বিশেষ রকেট প্রযুক্তির সাহায্যে মাটি থেকে ওপরে উঠতে এবং আকাশে বিভিন্ন কৌশলও প্রদর্শন করতে সক্ষম বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি স্থাপনায় ১৫ অক্টোবর নতুন রোডস্টারের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গাড়িটির অভিনব প্রযুক্তি ও সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। প্রযুক্তিপ্রেমী ও অটোমোবাইল বিশ্বের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে নতুন এই বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কার।
মাত্র এক সেকেন্ডের কম সময়ে অবিশ্বাস্য গতি
নতুন টেসলা রোডস্টারের সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য এর গতি। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটি স্থির অবস্থা থেকে মাত্র এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে ঘণ্টায় প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম।
এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৭০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। প্রচলিত বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় ব্যতিক্রমী কর্মক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে নতুন রোডস্টার তৈরি করা হয়েছে।
তবে প্রদর্শনীতে তুলে ধরা সক্ষমতা এবং গ্রাহকদের হাতে পৌঁছানো চূড়ান্ত সংস্করণের বাস্তব কর্মক্ষমতা একই হবে কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে মহাকাশ প্রযুক্তি
নতুন রোডস্টারের অন্যতম আকর্ষণ হলো স্পেসএক্সের তৈরি থ্রাস্টার প্রযুক্তি। এটি বিশেষ ধরনের চাপযুক্ত গ্যাসের সাহায্যে অতিরিক্ত শক্তি তৈরি করতে পারে।
প্রদর্শনীতে গাড়িটির মাটি থেকে ওপরে ওঠা, আকাশে অবস্থান পরিবর্তন এবং বিশেষ কৌশল প্রদর্শনের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া গাড়িটিতে বিশেষ সাকশন প্রযুক্তির ব্যবহারের কথাও জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে গাড়ির নিচের দিকে চাপের পার্থক্য তৈরি করে ব্যতিক্রমী কৌশল প্রদর্শন সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ উড়োজাহাজের মতো নিয়মিত আকাশপথে চলাচল করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি।
একবার চার্জে কত দূর চলবে?
নতুন রোডস্টারের একবার চার্জে প্রায় ৩০০ মাইল বা ৪৮৩ কিলোমিটার চলার সম্ভাব্য সক্ষমতার কথা জানানো হয়েছে।
তবে গাড়ির গতি, ব্যাটারির ব্যবহার, থ্রাস্টার প্রযুক্তি এবং সড়কের অবস্থার ওপর বাস্তব দূরত্ব নির্ভর করবে। বাজারে আসার পর চূড়ান্ত সংস্করণের পরীক্ষা থেকে এর প্রকৃত সক্ষমতা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
দাম কত হতে পারে?
টেসলার নতুন রোডস্টার সাধারণ বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাড়িটির বিভিন্ন সংস্করণের জন্য অগ্রিম বুকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পারফরম্যান্স সংস্করণের জন্য সর্বমোট ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং থ্রাস্ট সংস্করণের জন্য আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত সংরক্ষণ অর্থের তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে এই অর্থ গাড়ির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য নয়। বিভিন্ন সংস্করণের আনুষ্ঠানিক মূল্য এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি।
বিশেষ ‘রকেট’ সংস্করণ সীমিতসংখ্যক ক্রেতার জন্য রাখা হতে পারে, যেখানে আরও উন্নত উড্ডয়ন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
কবে বাজারে আসবে নতুন রোডস্টার?
টেসলার পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন প্রজন্মের রোডস্টারের উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু হতে পারে।
এর আগে ২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টারের ধারণা সামনে আনা হয়েছিল। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন কারণে গাড়িটির বাজারে আসার সময় একাধিকবার পিছিয়েছে।
এবার নতুন প্রযুক্তির প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকল্পটিকে আবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে টেসলা।
তবে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু হবে কি না এবং ক্রেতারা কবে গাড়ি হাতে পাবেন, সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সড়কে চলাচলের অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন
নতুন গাড়িটির অভিনব প্রযুক্তি যেমন আগ্রহ তৈরি করেছে, তেমনি এর নিরাপত্তা ও আইনগত অনুমোদন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে রকেট থ্রাস্টার ব্যবহার করে গাড়ি মাটি থেকে ওপরে তোলা কিংবা আকাশে বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শনের মতো প্রযুক্তি সাধারণ সড়কে ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গাড়ির নিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবহারের জন্য আলাদা বিধিবিধান রয়েছে। ফলে নতুন রোডস্টারের সব প্রযুক্তি সব দেশে ব্যবহারের অনুমতি পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বৈদ্যুতিক গাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা
নতুন রোডস্টারের মাধ্যমে টেসলা মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ির কর্মক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা তুলে ধরতে চাইছে।
বিশ্বের বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বৈদ্যুতিক যানবাহন, স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং এবং উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তখন টেসলার এই উদ্যোগ প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে গাড়িটির বাণিজ্যিক সাফল্য নির্ভর করবে উৎপাদন ব্যয়, নিরাপত্তা, আইনি অনুমোদন এবং বাস্তবে ঘোষিত সক্ষমতা অর্জনের ওপর।
আপাতত টেসলার নতুন রোডস্টার অটোমোবাইল বিশ্বের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে—ভবিষ্যতের ব্যক্তিগত গাড়ি কি শুধু সড়কে চলবে, নাকি সীমিত আকাশপথেও চলাচলের সুযোগ তৈরি করবে?
মন্তব্য করুন