লিড নিউজ ২৪ বিনোদন ডেস্ক:
বলিউড অঙ্গনে মুক্তি পেয়েছে অভিনেতা ও পরিচালক কুণাল খেমুর নতুন সিনেমা ‘ভাইব’। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, জটিল ও গতানুগতিক কাহিনীর বাইরে গিয়ে সিনেমাটি সফল হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে কুণাল খেমুর শক্তিশালী হাস্যরস, চমৎকার ওয়ান-লাইনার এবং তারকাবহুল শিল্পীদের প্রাণবন্ত অভিনয়। বক্স অফিস ও সমালোচকদের পর্যালোচনায় সিনেমাটি ৫-এর মধ্যে ৩ রেটিং অর্জন করেছে।
সিনেমাটির মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে দুই বন্ধুকে কেন্দ্র করে। মুম্বাইয়ের ‘নেক্সট ফেজ টেকনোলজিস’ নামক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত রয়েছে ভাগিরথ ওরফে বাগস, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্পর্শ শ্রীবাস্তব। তার পরম বন্ধু হারদিক শর্মা সম্প্রতি ড্রাগ রিহ্যাব থেকে মুক্তি পেয়েছে। বন্ধুর অনুরোধে বাগস তাকে নিজ কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগে চাকরি পাইয়ে দেয়। কর্মক্ষেত্রে পা রাখার পরই করিনার সঙ্গে হারদিকের পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে তাদের এই স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় হঠাৎ করেই নেমে আসে বড় বিপর্যয়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এক ভয়ংকর ও প্রভাবশালী সিকিউরিটি এজেন্ট ‘ম্যাডাম এইচ’ এবং তার দল দুই বন্ধুকে অপহরণ করে এক অতি গোপনীয় মিশনে নামতে বাধ্য করে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ে তারা কোনোভাবেই পিছু হটতে পারে না, আর এভাবেই এগিয়ে যায় সিনেমার মূল কাহিনী।
পরিচালক হিসেবে কুণাল খেমুর কাজ বেশ সাবলীল ও পরিপক্ব। এর আগে ‘ম্যাডাগাঁও এক্সপ্রেস’ ও ‘গো গোয়া গন’-এর মতো সিনেমায় কমেডির মুন্সিয়ানা দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে এই ঘরানার গল্পে তিনি বেশ দক্ষ। ‘ভাইব’ সিনেমায় তার পরিচালনা এবং চিত্রনাট্যে হাস্যরসের চমৎকার মিশেল দেখা গেছে। তবে ছবির কিছু সংলাপ প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী হওয়ায় সেন্সর বোর্ড থেকে সিনেমাটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের (‘এ’ সার্টিফিকেট) ক্যাটাগরিতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
অভিনয়ের দিক থেকেও সিনেমাটি বেশ সমৃদ্ধ। গোবেচারা বা বোহেমিয়ান ধরনের চরিত্রে কুণাল খেমু বরাবরই সিদ্ধহস্ত, আর এই সিনেমাতেও তিনি তা পূর্ণমাত্রায় বজায় রেখেছেন। তার সহজাত অভিনয় অনেক সাধারণ দৃশ্যকেও দারুণ হাসিখুশি করে তুলেছে। অন্যদিকে, ‘ম্যাডাম এইচ’ চরিত্রে প্রীতি জিন্তা স্ক্রিনে উপস্থিত হয়ে দারুণ চমক দেখিয়েছেন। তার অনবদ্য উপস্থিতি এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দর্শকদের দীর্ঘ সময় মনে থাকবে। প্রধান দুই তারকার পাশাপাশি স্পর্শ শ্রীবাস্তব ও বংশিকা ধীর নিজেদের অভিনয়ে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন, যা কুণাল ও প্রীতির ভিড়েও আলাদাভাবে নজর কাড়ে। এছাড়া দিনেশ লাল যাদব, যশপাল শর্মা ও মার্ক বেনিংটনসহ অন্যান্য পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতারাও বেশ বিনোদনমূলক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন।
সিনেমার গান ও অন্যান্য কারিগরি দিক প্রসঙ্গে বলতে গেলে, অমিত ত্রিবেদীর সুর করা গানগুলোর মধ্যে ‘রাত কা আনা’ কিংবা ‘আইসি মেরি ভাইব’ দর্শকদের মনে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে। জন স্টুয়ার্ট এডুরির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সিনেমার উত্তেজনার সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। তবে ছবির কিছু দুর্বল দিকও রয়েছে; বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে যখন হাস্যরসের মাত্রা কমে যায়, তখন গল্পের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। ভিলেনের ট্র্যাক বা রহস্যের মোড়কটি কিছুটা গতানুগতিক মনে হতে পারে এবং কিছু প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর অসম্পূর্ণ থেকে গেছে।সবমিলিয়ে, কিছু ছোটখাটো ত্রুটি সত্ত্বেও কুণাল খেমুর বুদ্ধিদীপ্ত কমেডি টাইমিং, চমৎকার চিত্রনাট্য এবং তারিকদের জমজমাট পারফরম্যান্সের সুবাদে ‘ভাইব’ একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদনমূলক সিনেমা হিসেবে দর্শকের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে শহুরে দর্শক ও তরুণ প্রজন্মের কাছে সিনেমাটি দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন