নিউজ ডেস্কঃ
বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা প্রায়ই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীন থাকি। ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা আমাদের অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, শরীরে বড় কোনো রোগ সাধারণত হঠাৎ করে বাসা বাঁধে না; এর লক্ষণগুলো আগে থেকেই প্রকাশ পেতে শুরু করে। তাই বয়স বাড়ার সাথে সাথে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা হেলথ চেকআপ করা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের আলোকে, লিড নিউজ ২৪-এর পাঠকদের জন্য বয়সভেদে স্বাস্থ্য পরীক্ষার একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা তুলে ধরা হলো।
২০-এর কোঠায়: দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার ভিত্তি কুড়ির কোঠায় শরীর সাধারণত সবচেয়ে সতেজ ও সুস্থ থাকে। তবে ভবিষ্যৎ সুস্থতার মজবুত ভিত্তি এই বয়সেই গড়ে তুলতে হয়। বিশেষ করে বর্তমান যুগের ফাস্ট ফুড নির্ভর খাদ্যাভ্যাস ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে কম বয়সেই অনেকে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
* প্রাথমিক পরীক্ষা: প্রতি ১-২ বছর অন্তর রক্তচাপ (ব্লাড প্রেশার) মাপা এবং উচ্চতা অনুযায়ী ওজন বা বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ঠিক আছে কি না, তা খেয়াল রাখা।
* রক্ত পরীক্ষা: সাধারণ রক্ত পরীক্ষা বা কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC)। পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে অবশ্যই রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।
* কোলেস্টেরল: অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস থাকলে লিপিড প্রোফাইল বা কোলেস্টেরল পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
* নারীদের জন্য: পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) বা থাইরয়েডের কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোন পরীক্ষা করা যেতে পারে।
৩০-এর কোঠায়: চাই বাড়তি সতর্কতা বয়স ত্রিশ পার হওয়ার পর শরীরের বিপাকীয় হার বা মেটাবলিজম কিছুটা ধীর হতে শুরু করে। এ সময় কর্মক্ষেত্রের চাপ ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে মানসিক অবসাদও বাড়ে। তাই এই বয়সে স্বাস্থ্য নিয়ে আরেকটু বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
* ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং: খালি পেটে রক্তে শর্করা এবং এইচবিএ১সি (HbA1c) পরীক্ষা করা। এটি প্রি-ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
* থাইরয়েড ও লিপিড প্রোফাইল: থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট এবং সম্পূর্ণ লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা এই বয়সে অত্যাবশ্যক।
* লিভার ও কিডনি: ফাস্ট ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রভাব বুঝতে লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT) এবং কিডনি ফাংশন টেস্ট (KFT) করা উচিত।
* নারীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা: জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে নিয়মিত ‘প্যাপ স্মিয়ার’ (Pap Smear) বা এইচপিভি পরীক্ষা করানো উচিত।
৪০-এর কোঠায়: দীর্ঘস্থায়ী রোগের পূর্বপ্রস্তুতি চল্লিশের কোঠা জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। এ সময়ে অনেক সুপ্ত রোগ প্রকাশ পেতে শুরু করে। তাই ৪০ পেরোলে নিয়মিত সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষার (Full Body Checkup) কোনো বিকল্প নেই।
* হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা: ইসিজি (ECG), ইকোকার্ডিওগ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্ট্রেস টেস্ট।
* ক্যানসার স্ক্রিনিং: নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসার শনাক্ত করতে ম্যামোগ্রাম (Mammogram) এবং পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারের জন্য পিএসএ (PSA) পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
* হাড়ের স্বাস্থ্য: এই বয়সে বিশেষ করে নারীদের মেনোপজের সময় ঘনিয়ে আসে বলে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে বোন ডেনসিটি (Bone Density) বা হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করা উচিত।
* চোখের পরীক্ষা: গ্লুকোমা বা রেটিনার অন্যান্য সমস্যা এড়াতে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কোনো বাড়তি খরচ নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় বিনিয়োগ। রোগ প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা। তাই বয়স যাই হোক না কেন, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিজের শরীরের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা জরুরি। লিড নিউজ ২৪-এর স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ— সময় থাকতে সচেতন হোন, সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপভোগ করুন।
মন্তব্য করুন