রাজধানীর উত্তরায় অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে কওমি মাদরাসাভিত্তিক একটি মহলের উস্কানি, মিথ্যা অপপ্রচার, হ্যান্ডবিল বিতরণ ও সার্বিক নিরাপত্তার হুমকির অভিযোগ তুলে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে উত্তরা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ। সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ডা. মাহফুজ উল্লেখ করেন, হেযবুত তওহীদ একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমুখী আন্দোলন। বিগত প্রায় ৩১ বছর ধরে সংগঠনটি ধর্মীয় উগ্রবাদ, মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত শান্তির বার্তা ও উদার নীতি ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সম্প্রতি একটি চিহ্নিত মহল ‘হেফাজতে ইসলাম’-এর ব্যানারে এবং কওমি মাদরাসাভিত্তিক একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে মিথ্যা ও উস্কানিমূলক হ্যান্ডবিল প্রচার করে আসছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কওমি মাদরাসাভিত্তিক ওই মহলটি বিভিন্ন মসজিদের জুমার খুতবায় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর কনটেন্ট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যেই হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জবাই করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ সদস্যদের জীবনকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালীর আসন্ন কর্মসূচি কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কার কথা জানানো হয়। নেতারা বলেন, আগামী ১ আগস্ট নোয়াখালীতে হেযবুত তওহীদের একটি পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ওই কুচক্রী মহলটি পুনরায় বিশৃঙ্খলা, হামলা ও নাশকতার চক্রান্ত শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে অতীতের একটি করুণ স্মৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বক্তারা বলেন, এর আগে ২০১৬ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতার বাসভবনে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলায় সংগঠনের দুই সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। বর্তমানে আবারও একই ধরনের অপ্রীতিজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও অভিযোগ তোলেন, মূলত কওমি অঙ্গনের বেশ কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রতি বেশ কিছু অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিশু নিপীড়নের মতো গুরুতর সামাজিক ব্যাধির অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অপরাধমূলক ঘটনা থেকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই ওই চক্রান্তকারী মহলটি হেযবুত তওহীদকে মূল টার্গেট বানিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে একটি কৃত্রিম অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বর্তমান এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে ৩ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— প্রথমত, হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানি, মিথ্যা হ্যান্ডবিল বিতরণ ও ‘মব’ বা সহিংস জনতা তৈরির অপচেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া; দ্বিতীয়ত, হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতার বাসভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ উত্তরা ও সারাদেশের সদস্যদের জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা; এবং তৃতীয়ত, নোয়াখালীতে ১ আগস্টের পূর্বঘোষিত সমাবেশকে ঘিরে যে কোনো উস্কানি ও সহিংস তৎপরতা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয় যেন অনতিবিলম্বে এসব উস্কানিদাতা ও চক্রান্তকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।
মন্তব্য করুন