জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার করতোয়া নদী কোল ঘেষে ঋষিঘাট নামক স্থানে প্রতি বছরের ন্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দিনব্যাপী গঙ্গা স্নান বার্ণির মেলা উৎসব মুখর পরিবেশে গতকাল বুধবার সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব গঙ্গা স্নান মেলাকে কেন্দ্র করে মেলার গঙ্গা স্থানে বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ শিশুসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সমাগমের উৎসবে পরিণত হয়েছিল। প্রতি বছরের ন্যায় এবার ওই মেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সুশৃঙ্খল পরিস্থিতি মেলায় আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সুস্থ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পূজা অর্চনা স্নান কার্য সম্পাদন করতে পেরে সকলেই সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
আয়োজিত মেলায় জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলাসহ পার্শ্ববতী বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, এবং রংপুর জেলার পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ ও জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নারী-পুরুষ ও শিশুদের মেলায় আগমন ঘটেছিল। এাছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ এই মেলার জলসরবরে গঙ্গা স্নান করে পাপ মোচন করতে আগমন ঘটেছিল। আগতরা সকলেই শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে পেরে আত্মতৃপ্তি সহকারে ফিরে গেছেন বলে তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
গতকাল বুধবার ভোর থেকে গঙ্গা স্নান শুরু হয়ে সন্ধা পর্যন্ত চলমান ছিল।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মত। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার বিষয় মেলা আয়োজনকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মেলায় আগত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আম, কাঁঠাল, কলা, মুড়ি, দইসহ নানা দ্রবাদি একত্রে মিশ্রন করে খেয়েছেন। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত সাধু সন্যাসীদের নিকট ভক্তি ও পুজা অর্চনা করেন। দিন-ভর চলে গঙ্গা দেবী, শিবসহ অনান্য দেব-দেবীদের পূজা অর্চনা। এই গঙ্গা স্নানকে কেন্দ্র করে দিন ভর মেলায় সাংসারিক কাজে যাবতীয় জিনিস পত্র,মিষ্টি সবই উৎসব মুখর পরিবেশে বেচাকেনা হয়েছে। মেলায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ, চৌকিদার ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কড়া নজরদারীতে সুষ্টুভাবে স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই বিষয়ে মেলায় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন মোহন্ত বাসস’কে জানান, এই জলসরবরে স্নান সম্পন্ন না হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আত্মার শুদ্ধি আসে না। যার ফলে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মাঝে এটি একটি পবিত্র স্থান বলে বিবেচিত। তিনি জানান, কথিত আছে মেলায় অবস্থিত গঙ্গা স্নান মন্দিরে বড় বড় ঋষি, মনিষীর আগমন ছিল। তারা এ জলসরবরেই পূণ্য স্নান করত। সেই থেকে প্রায় ২শ’ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী ঋষিঘাট গঙ্গা স্নান বার্ণির মেলা নামে পরিচিত। হিন্দুদের ধর্মীয় সংস্কৃতি প্রতি বছর একই সময়ে হয়ে আসছে বলে তিনি জানান।
জেলার ঘোড়াঘাট থানার ওসি পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম বাসস’কে জানান,আমি নিজে আমার থানার পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বুধবার ভোর থেকে রাত ১০’টা পর্যন্ত নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলাম। মেলায় আগত প্রত্যেকটি নাগরিককে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ধর্মীয় কার্যক্রম শেষে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পেরে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন বাসস’কে জানান, মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের সহযোগিতাসহ উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে মেলাটি অনুষ্ঠিত হয় তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন