” কাজী স্বাধীন ”
স্টাফ রিপোটার :- নওগাঁ জেলা দায়রা জজ আদালত থেকে রায়ের নথি চুরি ও ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় আদালতের উমেদার, মুহুরী ও দুই কর্মচারীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া মামলার মূল নথি।
পুলিশ জানায়, ২১ মে সন্ধ্যায় নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে জানান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ থেকে দায়রা মামলা নম্বর ৯০৪/২০২ এর রায় ঘোষণার আগেই নথি চুরি হয়েছে। একইসঙ্গে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে আদালতের কর্মচারীকে ফোন করে নথি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দ্রুত চোর শনাক্ত, গ্রেফতার ও নথি উদ্ধারের নির্দেশ দেন।
গোয়েন্দা পুলিশের চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যে মূল চোরকে শনাক্ত করে। রাজশাহীর বাগমারায় অভিযান চালিয়ে পরে নওগাঁ সদরের শৈলগাছি ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার থেকে আসামি এস এম আকাশকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আকাশের দেওয়া তথ্য মতে তার বাড়ির আঙিনায় খড়ের পালা থেকে উপস্থিত জনতার সামনে চুরি যাওয়া নথি উদ্ধার করা হয়।
আকাশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর থানা ও আদমদিঘি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর পিয়ন পলাশ, পলাশের ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং আদালতের মুহুরী সবুজকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত এস এম আকাশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করে তিনজনের নামসহ কয়েকজন অজ্ঞাত আসামির কথা উল্লেখ করেছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। সাধারন মানুষের দাবী এদের কঠিন থেকে কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে কারন এরা মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে বহু নিরিহ ও নির্দোষী মানুষদেরকে বিপদে ফেলে আসছে বলে শোনা যাচেছ। তাই প্রতিটা আদালতের নথি পত্র সাবধান ভাবে রাখা খুবই জরুরী বাস্তবমুখী। সুধু তাইনা এদের বিরুদ্ধে এমন কঠিন আইন প্রয়োগ করা হোক ভবিষ্যতে এদের দেখে অন্যরা যেন শিক্ষা পায়।
মন্তব্য করুন