নিউজ ডেস্ক
২০ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ২১ জন

ফেনীতে এক মাঠে ৬৭ জাতের ধানের আবাদ

জেলার শহরতলির একটি মাঠে ৬৭ জাতের হাইব্রিড ও ইনব্রেড ধানের আবাদ করা হয়েছে| এসব ধানের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেলার সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ কাশেমপুরের প্রায় ২০ একর জমিতে এই পরীক্ষা চলছে| জাতীয় পদকপ্রাপ্ত সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (অব.) মো. আজিজুল হক এ প্রকল্পটি পরিচালনা করছেন| বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন অধিদপ্তর এ প্রকল্পের তদারকি ও প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে।

মো. আজিজুল হক জানান, ২০২৪ সাল থেকে তিনি কাশেমপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে নতুন ধানের জাত পরীক্ষা ও বীজ উৎপাদনের প্রকল্প পরিচালনা করে আসছেন| তিনি এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বীজ সরকার অনুমোদিত ‘ফেনী স্মার্ট কৃষি’ নামে বাজারজাত করে থাকেন।

তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে মাঠের ১৬২টি প্লটে হাইব্রিড ৫৪ জাতের ধান আবাদ করছেন| অন্যদিকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৩৯ প্লটে পরীক্ষাধীন ১৩টি জাতের ধান আবাদ করেন| ৪ একর জমিতে বীজ উৎপাদনের জন্য ব্রি অনুমোদিত সর্বশেষ জাতসমূহের মধ্যে লবণ এবং জলবায়ু সহনশীল ব্রি-১১৭ জাতের ধান, ৪ একর জমিতে পোকা-মাকড় ও রোগ-বালাই সহনশীল ব্রি-১১৪ জাতের ধান, ৪ একর জমিতে প্রোটিন সমৃদ্ধ ব্রি-১০৮ জাতের ধান, ৩ একর জমিতে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-১০২ জাতের ধান, ১ একর জমিতে ডায়াবেটিক প্রতিরোধী ব্রি-১০৫ জাতের ধান এবং ১ একর জমিতে ক্যান্সার প্রতিরোধী ব্রি-১১৫ (ব্র্যাক রাইস) আবাদ করা হয়| এছাড়া আরো ৩ একর জমিতে হাইব্রিড ধানের বীজ উৎপাদনের জন্য আবাদ করা হয়।

দেশের কৃষি বিজ্ঞানী ও ধান বিজ্ঞানীগণ নিয়মিত এই প্রকল্প তদারকি করেন| উল্লিখিত ২০ একর জমিতে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়| বীজ বপন থেকে কর্তন পর্যন্ত ১৩৫ থেকে ১৫০ দিন সময় প্রয়োজন হয়।

মো. আজিজুল হক জানান, ২০১৯ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পরও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ও কৃষি আবাদে উৎসাহ জোগাতে তিনি প্রান্তিক কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহ জোগাচ্ছেন| তার এই প্রকল্প দেখতে ফেনী ও আশপাশের এলাকার শতশত কৃষক এই মাঠে ছুটে আসেন| তিনি তাদের হাতে কলমে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকেন| বিগত আমন মৌসুমে ফেনী স্মার্ট কৃষির উৎপাদিত ব্রি-১১০ জাতের বীজ ধান ১০ কেজি করে ৫শত কৃষকের মধ্যে বিতরণ করেন| যাতে করে কৃষকরা অল্প জমিতে বেশি উৎপাদন করে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে আগ্রহী হন|

তিনি বলেন, দেশের ৮টি গবেষণা কেন্দ্রে হাইব্রিড ও ইনব্রেড ধানের জাত পরীক্ষা করা হয়| চট্টগ্রাম বিভাগের গবেষণা কেন্দ্রটি ফেনীর কাশেমপুরে।

ফেনী বীজ প্রত্যয়ন অধিদপ্তর-এর কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, কাশেমপুরের এই প্রকল্পটিতে তারা নিয়মিত তদারকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকেন। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কিংবা ধান উৎপাদন কেমন হচ্ছে এসব বিষয়ে তারা নিয়মিত নজর রাখেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সোমবারই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি : আশাবাদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

দেশব্যাপী শিশু নির্যাতন, হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন

জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট, বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়

জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

জীবনের অভিজ্ঞতায় নির্মিত এক আত্মজৈবনিক দলিল

রাজবাড়ীতে কবি কাজী নজরুলের জন্ম জয়ন্তী পালিত

মধ্যপ্রাচ্য চুক্তি নিয়ে ইরান ইস্যুতে প্রত্যাশা কমালেন ট্রাম্প

টাঙ্গাইলের ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত

ডিআর কঙ্গোতে সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীর সংখ্যা ৯শ’ ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও

নেত্রকোণায় ইয়াবাসহ দুইজন আটক

১০

আটক ও ঘুষ বানিজ্যে বেপরোয়া কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই দেলোয়ার

১১

ঈদে উপকূলজুড়ে কোস্ট গার্ডের হাই প্রোফাইল নিরাপত্তা বলয়

১২

ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথেও রয়ে গেছে ডিজিটাল বিভাজন

১৩

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৬ হাজার কর্মী

১৪

সেনাবাহিনীর আন্তঃঅঞ্চল আযান ও কিরাত প্রতিযোগিতা-২০২৬ সমাপনী অনুষ্ঠিত

১৫

পার্বত্য মন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

১৬

পাকিস্তানে বোমা হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

১৭

কোরবানির চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও পাচার রোধে সরকারের নয়া উদ্যোগ

১৮

নেত্রকোণায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ

১৯

ফেনীতে এক মাঠে ৬৭ জাতের ধানের আবাদ

২০