নিজস্ব প্রতিবেদক, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর):
অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর দায়িত্বে অবহেলার চড়া খেসারত দিতে হলো সরকারকে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় একটি মাদ্রাসায় রমজানের দীর্ঘ ছুটিতে চললো চোরচক্রের রাজত্ব। প্রায় তিন লক্ষ টাকার সরকারি সম্পদ এখন চোরদের দখলে, আর দায় এড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উত্তর মানিক খালী মুন্সি আঃ করিম বালিকা দাখিল মাদ্রাসায়। দেড় মাসের দীর্ঘ ছুটি শেষে গত ২৯ এপ্রিল মাদ্রাসা খোলার প্রথম দিনেই বেরিয়ে আসে চুরির ভয়াবহ চিত্র। নৈশপ্রহরী মাদ্রাসা সুপারকে জানান, শ্রেণিকক্ষ ও অফিস থেকে ২০টি সিলিং ফ্যান, ২টি আইপিএস ও ব্যাটারি এবং একটি ২০০ লিটারের পানির ট্যাংকসহ লাইট ও জরুরি সব সরঞ্জাম উধাও হয়ে গেছে।
চুরির এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী: নিয়মিত প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে তালা লাগানোর কথা থাকলেও, কোনো রুমেই তালা ছিল না। অফিস কক্ষ আর প্রধান গেটে লাগানো হয়েছিল দায়সারা গোছের অত্যন্ত নিম্নমানের তালা।
নৈশপ্রহরী রাতে মাদ্রাসায় অবস্থানের নিয়ম থাকলেও তিনি নিয়মিত বাড়িতে রাত কাটাতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক সখ্যতা ও রহস্যজনক নীরবতায় এলাকাবাসীর অভিযোগের তির এখন খোদ কর্তৃপক্ষের দিকে। স্থানীয়রা জানান, মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি এবং নৈশপ্রহরী সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। সভাপতির সাথে এই পারিবারিক সখ্যতা এবং নৈশপ্রহরীর রহস্যজনক নীরবতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সরকারি এত বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট হয়ে গেলেও কেন কেউ কোনো শব্দ বা আলামত টের পেল না— তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
চুরির ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার থানায় একটি দায়সারা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে দায়িত্বরতদের চরম গাফিলতি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের এই উদাসীনতা কি কেবলই অবহেলা নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গভীর যোগসাজশ?
পুলিশি তদন্তেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং আত্মসাৎকৃত বা চুরি হওয়া সরকারি সম্পদ উদ্ধার করা হোক।
মন্তব্য করুন