মোঃ নাসির উদ্দিন, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আকবর হোসেনকে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ ঘিরে নগর ভবনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অবসরোত্তর সময়েও তিনি প্রভাব খাটিয়ে পদে থাকার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ চাকরি জীবনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ঠিকাদারি কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছিলেন আকবর হোসেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সময় জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ লাদেন মনির, আশরাফুল ইসলাম রানা এবং আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশে টেন্ডার ফাইল নিয়ন্ত্রণ ও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও পিআরএল স্থগিত রেখে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান আকবর হোসেন। তবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের সরকারের আমলে দেওয়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর চলতি বছরে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় শওকত হোসেন সরকারকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সিটিকে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
এদিকে নতুন করে লবিংয়ের অভিযোগে সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, অবসরোত্তর সময়েও প্রধান প্রকৌশলীর পদ ফিরে পেতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করছেন আকবর হোসেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিসিসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, “অবসরের পরও যদি একই ব্যক্তি আবার দায়িত্ব পান, তাহলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নেতিবাচক বার্তা যাবে। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, “এ বিষয়ে আমি এখনো কোনো অফিসিয়াল চিঠি পাইনি। আমিও বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি।”
এদিকে আকবর হোসেনকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আকবর হোসেনের মুঠোফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন