সায়মন খান | লিড নিউজ ২৪:
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এর আগে সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইশরাক।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুন্টিঘর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। ওই সময় তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতে অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। একজন দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন এবং অভিযানে অংশ নেওয়ার এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ।
এ ঘটনার পর রোববার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সে সময় ওই তথ্য অস্বীকার করে ইশরাকের পক্ষ থেকে বলা হয়, পদত্যাগের খবরটি সত্য নয়।
পরদিন সোমবার সকালে অবস্থান পরিবর্তন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে তিনি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং এ-সংক্রান্ত বিতর্কে সরকার ও দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতেই তিনি দায়িত্ব ছেড়েছেন।
অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ইশরাক বলেন, নিজের নিরাপত্তার প্রয়োজনেই তিনি কিছু সময়ের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, অস্ত্রটির বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং অভিযানের ঘটনাকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে নিজের কর্মকাণ্ডে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। পাশাপাশি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানান তিনি।
এদিকে ইশরাকের পদত্যাগ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সোমবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছানোর বিষয়টি জানা গেলেও প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন আহমেদ আযম খান। ইশরাক হোসেন ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হলে মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা ২৪ থেকে কমে ২৩ জনে দাঁড়াবে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৬ জন।
ইশরাকের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও আচরণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এখতিয়ার এবং মাদকবিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি।
মন্তব্য করুন