নিজস্ব প্রতিবেদক.ঝিনাইদহ-
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। স্কুলে যাওয়ার পথে মোছাঃ মুনিয়া খাতুন (১৩) নামের ৭ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে দিনে-দুপুরে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজের দু’দিন পার হয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি ওই কিশোরীর। এ ঘটনায় চরম উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের মধ্যে।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে। পারিবারিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রামচন্দ্রপুর বিশ্বাস পাড়ার অধিবাসী মোঃ মাহবুব রহমানের ১৩ বছর বয়সী কন্যা মুনিয়া খাতুন প্রতিদিনের মতো স্থানীয় শেখ মোজাফফর হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। রামচন্দ্রপুর মাঠের পিচ রাস্তা ধরে হাঁটার সময় হটাৎ একটি মোটরসাইকেলে এসে অপহণকারীরা তার গতিরোধ করে এবং তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে দ্রত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ থানার পাতবিলা গ্রামের মোঃ আমিরুল ইসলামের ছেলে মোঃ ফরহাদ হোসেন (২২)—যে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে—মুনিয়ার খালুর বাড়ির সংলগ্ন প্রতিবেশী। খালুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগে যেকোনো উপায়ে মুনিয়ার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফরহাদ এবং তার সাথে যোগাযোগের একপর্যায়ে তথাকথিত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে অনুসন্ধান ও সরেজমিন তদন্তে অভিযুক্ত ফরহাদের বাড়িতে গেলে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি মেলে। ফরহাদের মা প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের নিকট স্বীকার করে বলেন, “হ্যাঁ, আমার ছেলে ফরহাদ মেয়েটিকে নিয়ে এসেছে। তারা বর্তমানে ঢাকাতে অবস্থান করছে।”
এদিকে এ ঘটনায় মুনিয়ার পিতা মোঃ মাহবুব রহমান অত্যন্ত কান্নাজড়িত কণ্ঠে ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়ে মাত্র ১৩ বছরের এক অবুঝ শিশু, ৭ম শ্রেণীতে পড়ে। স্কুলে যাওয়ার পথে দিনদুপুরে তার পথ রোধ করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়েছি। আমার নিষ্পাপ সন্তান এখন কোথায়, কী অবস্থায় আছে—আমরা কিছুই জানি না। আমরা এখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
একটি কোমলমতি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে পথ থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত অপরাধীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ঝিনাইদহের সম্মানিত পুলিশ সুপার এবং কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোর দাবি জানানো হয়েছে—যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার অবস্থান চিহ্নিত করে অপহৃত মুনিয়া খাতুনকে স্বজনদের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
মন্তব্য করুন