এইচ এম মাহমুদ হাসানঃ
রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাভোগের মধ্য দিয়ে সক্রিয় থাকা নেতাদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে শিমুল আহমেদের নাম।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের রাজনীতিতে মাঠপর্যায়ের কর্মী থেকে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে তিনি বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।
বিগত সরকারের সময়ে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করতে হয়েছে । দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি।
শিমুল আহমেদের রাজনৈতিক পথচলার শুরু প্রায় দুই দশক আগে। ২০০২ সালে বৃহত্তর উত্তরা থানার দক্ষিণখান ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন তিনি। এরপর উত্তরা মডেল থানা ও উত্তরা পশ্চিম থানা যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্বও ছিল।
পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মিরপুর জোনের টিম প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন শিমুল আহমেদ। এসব দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তার অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত হয় বলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা জানান।
শিমুল আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় জুড়ে রয়েছে আন্দোলন-সংগ্রাম ও কারাভোগ।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের পরের দিন মতিঝিলে
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে যুবদলের মিছিল থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে ৫৮ দিন কারাভোগ করেন তিনি। ২০২৩ সালের আগস্টে পল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন এবং ৫৬ দিন কারাগারে ছিলেন বলেও তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালে একটি রাজনৈতিক মামলায় প্রায় ১৬ মাস কারাভোগ করেন এই যুবদল নেতা।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে উত্তরা ৭ থানার বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছিল বলে তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা জানান।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকায় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিমুল আহমেদ সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। ওই সময়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, আন্দোলনের কঠিন সময়ে মাঠে সক্রিয় থাকা এবং কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার একটি সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের কারণে বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে শিমুল আহমেদের নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হিসেবেই রয়েছে।
২০২৬ সালের ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন পরিচালনা কমিটি এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন শিমুল আহমেদ। এসব দায়িত্ব তার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কার্যক্রমেও শিমুল আহমেদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। উত্তরা পশ্চিম থানার স্থায়ী বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম ও মোসা. শহীদা বেগমের সন্তান শিমুল আহমেদ বৃহত্তর উত্তরা এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে থাকেন। তিনি ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সদস্য, হিউম্যান এইড এন্ড ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল এর কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব ছাড়াও বাংলাদেশ লাইভ এন্ড চিল্ড ফুড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন এর সদস্য।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে যুবদলের তৃণমূল পর্যায়ে তার সমর্থক রয়েছে।
যুবদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাভোগসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিমুল আহমেদকে তারা সবসময় পাশে পেয়েছেন। কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাদের পাশে থাকার কারণে তৃণমূলে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। তাই আগামী দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে শিমুল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা
দুই দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন, মামলা, কারাভোগ ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শিমুল আহমেদের যে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে, সেই অভিজ্ঞতাই এখন তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্বের আলোচনায় এনেছে। আগামী দিনে দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোয় তার অবস্থান কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন