নিউজ ডেস্ক
১ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১৬ জন

সত্য খুঁজে বের করা ও তা রক্ষা করাই সাংবাদিকের প্রধান কাজ : কাদের গনি চৌধুরী

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। সাংবাদিকের কাজ সত্যকে খুঁজে বের করা এবং সেই সত্যকে রক্ষা করা। সত্য না থাকলে আস্থা থাকে না, আর আস্থার অভাব হলে গণতন্ত্রও থাকে না।

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পুরোপুরি সত্যতার ভিত্তিতে হতে হবে। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই এবং এ ক্ষেত্রে আপসেরও কোনো সুযোগ নেই। সংবাদমাধ্যম দেশের জনগণ ছাড়া কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়। কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব আয়োজিত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের সঙ্গে নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, দাসত্বের সাংবাদিকতাকে মানুষ ঘৃণা করে। গত ১৭ বছর ধরে আমরা অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখেছি। এ কারণে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদা ম্লান হয়েছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট  গণঅভ্যুত্থান  বিষয়টি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন দলীয় ব্যানারের আড়ালে সাংবাদিকতা করেছেন এবং ক্ষমতার সঙ্গে আঁতাত করে জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত জনগণের রোষানল থেকে বাঁচতে পারেননি। কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, কেউ হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে গেছেন, আবার অনেকে এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘এই বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি অমোঘ সত্য হাজির করেছেÑ সাংবাদিকতা কখনো দলীয় ব্যানারের ভিত্তিতে টিকে থাকতে পারে না। জনগণের আস্থা হারানো মানে সাংবাদিকতার মৃত্যু। সাংবাদিকতা কোনো মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা নয়, এটি একটি সম্মানের পেশা।’

বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকতার পথ কখনোই সহজ বা মসৃণ ছিল না। বর্তমানে গণমাধ্যমে যে অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে, তা অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকরা আরও বেশি সত্য তুলে ধরতে পারবেন। তবে যা ইচ্ছা তা লিখলেই সাংবাদিকতা হয় না। যা মুখে আসে তা বলাই বাকস্বাধীনতা নয়। স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে।

গণমাধ্যমের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধিকাংশ নতুন গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবর্তে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়েই অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। এর ভয়াবহতা থেকে কেউই নিরাপদ নয়। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেও সামাজিকভাবে মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।

এসব বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, অপসাংবাদিকতা ও হয়রানি রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের যাতে অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতিমালা কার্যকর করতে হবে। ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দিতে হয় না বলেই অসংখ্য ভূঁইফোড় গণমাধ্যম গড়ে উঠছে। এসব গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও ওয়েজবোর্ড বাধ্যতামূলক করা হলে অপসাংবাদিকতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এসব গণমাধ্যমের তথাকথিত সাংবাদিকদের একটি অংশ চাঁদাবাজি করছে এবং সাংবাদিকতার পরিচয়কে অপব্যবহার করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ম্লান হচ্ছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের দাবি জানাচ্ছে সাংবাদিক সমাজ। সরকারি কর্মকর্তারা যেখানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ছুটি পান, সেখানে সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ ও ছুটির বিষয়টি এখনো যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সাগর-রুনিসহ অনেক সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। কথায় কথায় সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। সাংবাদিকরা জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কথা বললেও কর্মক্ষেত্রসহ কোথাও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে চাকরির নিশ্চয়তাও নেই।

সাংবাদিক সমাজের বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমাদের মাঝে বহু বিভাজনের কারণে আমরাই দুর্বল হচ্ছি। সরকার ও মালিকরা এর সুযোগ নেন।’

তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদকের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নুরুল আলম রোকন, সাঈদ তারেক, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আবু রুশদ, ফরিদ আলম, গাউছুল আজম বিপু, কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, আরিফুল ইসলাম মামুন, মঈনুদ্দীন নাসের, মমিনুল ইসলাম মজুমদার, ওয়াহেদ খান, এবিএম সালেহ উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম ও ডা. সারোয়ার ইসলাম।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল: নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

আনন্দবাজারের ‘শেখ হাসিনা প্রীতি’ এবং ভারতীয় গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব: একটি নির্মোহ বিশ্লেষণ

সত্য খুঁজে বের করা ও তা রক্ষা করাই সাংবাদিকের প্রধান কাজ : কাদের গনি চৌধুরী

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যয়

ভিয়েতনাম জাতের কালো ধান চাষে সফল এক যুবক

গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার ও সম্পত্তি হস্তান্তর আইন: ন্যায়বিচারে নতুন দিগন্ত

জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে ডেলসি রদ্রিগেজের বৈঠক: হোয়াইট হাউস

কোরিয়ার কাছে ৮-০ গোলে হারল বাংলাদেশ নারী দল

রুপির বিপরীতে টাকার বড় উত্থান, দুই বছরে শক্তিশালী হয়েছে ১১.৬ শতাংশ

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১১

১০

এপিএল খেলতে নিবন্ধন করেছেন তাসকিন

১১

ইরানকে ‘ধূলিসাৎ’ করার হুমকির মাঝেই নতুন আলোচনার আভাস দিলেন ট্রাম্প

১২

দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

১৩

হারানো পাসপোর্ট দ্বিতীয়বার পুনঃইস্যুতে গুনতে হবে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা

১৪

মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

১৫

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

১৬

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবাসহ ১ জন আটক

১৭

আশুলিয়া সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মামলায় মালিকপক্ষের নাম বাদ,আসামির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা

১৮

নৈরাজ্য বরদাশত করা হবে না— রিজভী আহম্মেদ

১৯

ডিমলায় দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

২০