শুরুটা ছিল চমকপ্রদ। শক্তিশালী গল্প আর অভিনয়শিল্পীদের অনবদ্য পারফরম্যান্সে মনে হচ্ছিল দারুণ এক সিনেমা হতে যাচ্ছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের অগোছালো চিত্রনাট্য এবং হতাশাজনক ক্লাইম্যাক্সের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা মেটাতে পুরোপুরি পারল না মেঘনা গুলজারের নতুন সিনেমা ‘দায়রা’।সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী কাজের স্টাইলের দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে এগিয়েছে এই সিনেমার গল্প। হাইওয়ে থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া তরুণী রাগিণীর পোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অপরাধীদের ধরার দায়িত্ব পান ডিসিপি রমন কুমার (পৃথ্বীরাজ সুকুমারন)।
তার দল দ্রুত চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও আদালতে নেওয়ার আগেই পুলিশের গুলিতে তারা নিহত হয়। পুলিশের দাবি, আসামিরা পালানোর চেষ্টা ও গুলি ছুঁড়েছিল। সারাদেশ যখন এই এনকাউন্টার উদযাপন করছে, তখন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপে তদন্তের দায়িত্ব পান ইন্টারনাল ভিজিল্যান্স ইউনিটের ডিসিপি আজুনি কোহলি (কারিনা কাপুর খান)। রমন কুমার ও তার টিমের এনকাউন্টারটি কি সত্যি ছিল, নাকি পুরোটাই সাজানো— মূলত এই সত্য উদঘাটনের গল্প নিয়েই এগিয়েছে ‘দায়রা’।
পরিচালক মেঘনা গুলজার তার ২০১৫ সালের দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘তলোয়ার’-এর মতোই একটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন। প্রথম দৃশ্য থেকেই তিনি মূল গল্পে প্রবেশ করেছেন এবং দুই পুলিশ দলের মধ্যকার সংলাপ ও তদন্তের দৃশ্যগুলো দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। তবে বিরতির পর সিনেমার গতি অনেকটাই ধীর হয়ে যায়। কিছু কিছু জায়গায় দর্শক দ্বিধায় পড়তে পারেন যে দৃশ্যটি ফ্ল্যাশব্যাক নাকি বর্তমান সময়ের। সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা হলো এর ক্লাইম্যাক্স। সাধারণত এ ধরনের থ্রিলার সিনেমায় শেষে যে টানটান উত্তেজনা ও উপসংহার থাকে, এখানে তার অভাব প্রকট। হঠাৎ করেই সিনেমাটি শেষ হয়ে যাওয়ায় দর্শক একধরনের অপূর্ণতা নিয়ে হল থেকে বের হবেন।
চিত্রনাট্যে ত্রুটি থাকলেও অভিনয়ের দিক দিয়ে সিনেমাটি দর্শকদের মন জয় করবে। ডিসিপি আজুনি চরিত্রে কারিনা কাপুর খান তার স্বভাবসুলভ গ্ল্যামার ভেঙে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সূক্ষ্ম অভিনয় করেছেন। অন্যান্য সিনেমার মহিলা পুলিশ চরিত্রের মতো তাকে হতাশ বা মদ্যপ হিসেবে দেখানো হয়নি, যা একটি দারুণ নতুনত্ব। অন্যদিকে পৃথ্বীরাজ সুকুমারন দুর্দান্ত; বিশেষ করে কেবল চোখ দিয়ে তার অভিব্যক্তি প্রকাশের ধরন দর্শকদের মুগ্ধ করবে। এছাড়া ক্ষিতী জোগ, ভবেশ ববানি ও বিশ্বপতি সরকারের সাবলীল অভিনয় এবং কেটন সোধার চমৎকার আবহসংগীত দৃশ্যগুলোকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
বলিউড হাঙ্গামা সিনেমাটিকে ৫-এর মধ্যে ২.৫ রেটিং দিয়েছে। অভিনব গল্প এবং কারিনা-পৃথ্বীরাজের শক্তিশালী অভিনয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ‘দায়রা’ কেবল দীর্ঘায়িত দ্বিতীয়ার্ধ ও চমকবিহীন শেষের কারণে একটি মাস্টারপিস থ্রিলার হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। মাল্টিপ্লেক্সের দর্শকদের ইতিবাচক আলোচনার ওপরই এখন বক্স অফিসে সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
মন্তব্য করুন