নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জ্যাকেটের গোপন চেম্বারে করে ফেন্সিডিল পাচারের সময় রাজধানীর মহাখালী থেকে ৪ সদস্যের একটি পাচার চক্রকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-ডিএনসি। এ সময় ৩০৯ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় জানায়, গত ৪ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দুটি যাত্রীবাহী বাসে করে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল ঢাকায় আনা হচ্ছে।
তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসির একটি বিশেষ টিম বনানী থানাধীন মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকার কস্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান নেয়।
প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ন্যাশনাল ট্রাভেলসের বাস থামিয়ে বি-৩, সি-৩ ও সি-৪ নম্বর আসনের ৩ যাত্রীকে আটক করা হয়। তাদের ট্রাভেলস ব্যাগ তল্লাশি করে ১০৯ বোতল ও ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
এরপর দেশ ট্রাভেলসের বাস থামিয়ে জি-১ নম্বর আসনের এক যাত্রীকে আটক করা হয়। তার গায়ে থাকা বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জ্যাকেটের গোপন চেম্বার থেকে আরও ৫০ বোতল ফেন্সিডিল পাওয়া যায়। পরে আরও একটি জ্যাকেট থেকে ৫০ বোতল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. মোঃ নাসিরুল ইসলাম (৪৮), চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৩. মোঃ ফাহিম আজাদ (২৭), নাটোরের লালপুর
৩. মোছাঃ জুলেখা খাতুন (৩২), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ
৪. মোছাঃ শারমিন খাতুন (৩২), চাঁপাইনবাবগঞ্জ
মোট ৩০৯ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ১০ মিলিলিটার করে মোট ৩০.৯ লিটার তরল মাদক। এছাড়া মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত ৮টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
ডিএনসি জানায়, গ্রেফতারকৃতরা গত ৩-৪ বছর ধরে এই চক্রের মাধ্যমে ফেন্সিডিল পাচার করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা একাধিক রুট ও বাস ব্যবহার করত এবং এনক্রিপ্টেড অ্যাপে যোগাযোগ করত।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, তারা বিশেষভাবে তৈরি জ্যাকেট ব্যবহার করত। জ্যাকেটগুলো সাধারণ পোশাকের মতো দেখতে হলেও ভেতরে একাধিক গোপন চেম্বার ছিল। প্রতিটি জ্যাকেটে ৫০ থেকে ৬০ বোতল পর্যন্ত ফেন্সিডিল বহন করা যেত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ESKUF Syrup ও FAIRDYL Syrup নামে পরিচিত ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে স্থানীয় কারবারিদের কাছে বিক্রি করত। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতার ৪ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বনানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্য ও অর্থদাতাদের শনাক্তে ডিএনসির গোয়েন্দা তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: মেহেদী হাসান।
মন্তব্য করুন