জবি প্রতিনিধি
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ‘মেধাবী প্রকল্প’-এর আওতায় পরিচালিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন মূল ক্যাম্পাসে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সে অনুযায়ী পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে অতিরিক্ত চাপ। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বাসে উঠতে ব্যর্থ হচ্ছেন, আবার অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের দরজায় ঝুলে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও আস-সুন্নাহ হলটিতে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অবস্থান করতেন। সম্প্রতি নতুন করে আরও প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭০০-তে পৌঁছেছে। তবে শিক্ষার্থী বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসের সংখ্যা বা ট্রিপ বাড়ানো হয়নি। এতে করে দিন দিন পরিবহন সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
বর্তমানে হল থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা ২০ মিনিট, ৭টা ৩৫ মিনিট ও ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনটি ডাবল ডেকার বাস এবং দুটি শাটল বাস মূল ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর জন্য এই পরিবহন ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষ করে প্রথম দুটি ট্রিপে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বাসে উঠতে পারেন না। বাধ্য হয়ে কেউ পরবর্তী বাসের অপেক্ষায় থাকেন, আবার কেউ দরজায় ঝুলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করেন।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত অতিরিক্ত বাস ও ট্রিপ চালুর দাবি জানিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নতুন বাস সংযোজন, ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত ট্রিপ চালু এবং পরিবহন ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন রবিন বলেন, “আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন আমাদের জন্য একটি মেধাবী প্রকল্প চালু করেছে। কিন্তু সেখানে যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় বাস-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারছে না। প্রতিদিন বাসের দরজায় ঝুলে যাতায়াত করতে হয়। এভাবে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুবায়ের আল মাহমুদ ওহি বলেন, “বাস সংকট আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। একটি জায়গা পাওয়ার জন্য অন্তত ৩০ মিনিট আগে লাইনে দাঁড়াতে হয়। সামান্য দেরি হলেই বাসে ওঠার সুযোগ থাকে না।”
এ বিষয়ে জকসুর পরিবহন সম্পাদক মাহিদ বলেন, “আস-সুন্নাহ হলের শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে আবেদন করেছে। আমরা সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের ট্রিপে আরও একটি বাস সংযোজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উপাচার্যের অনুমোদন পেলেই আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাসটি চালু করা হবে। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন হঠাৎ করেই ২০০ শিক্ষার্থী বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষার্থী বাড়ানোর আগে আমাদের অবহিত করা উচিত ছিল। তবে এখন যেহেতু আবেদন এসেছে, আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক বলেন, “শিক্ষার্থীদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ মাসের মধ্যেই একটি ভাড়াকৃত বাসের ব্যবস্থা করা হবে। আশা করছি, এর মাধ্যমে চলমান সংকট অনেকটাই কমে আসবে।”
এদিকে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দ্রুত অতিরিক্ত বাস ও ট্রিপ চালুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই পরিবহন সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মন্তব্য করুন