হাফসা আক্তার :
মাদক-চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং চুরি ছিনতাই কোন অপরাধীর ছাড় নেই বলে জানিয়েছেন উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ।
দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ডিসি জানান,
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের থানা পুলিশ টানা অভিযানে অপহরণ চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে অপহৃত ভিকটিম ও মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। পৃথক অভিযানে দুবাই প্রবাসীর আত্মসাৎকৃত ৯ ভরি স্বর্ণালংকার, মোবাইল-ল্যাপটপসহ ১ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উত্তরা বিভাগের উপ- পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক বেগ আরো জানান,গত ৯ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৩ নম্বর সেক্টরের জসিম উদ্দিন এলাকা থেকে ভিকটিম আজিবুর রহমান, ৫০, কে অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীরা প্রাইভেটকারে অপহরণ করে। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও এলাকায় নিয়ে মারধর করে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণ না দিলে হত্যার হুমকি দিয়ে ভিডিও কলে পরিবারকে মারধরের দৃশ্য দেখানো হয়। ভিকটিমের ভাগিনা জহুরুল ইসলামের মাধ্যমে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলেও অপহরণকারীরা ভিকটিমকে ছাড়েনি। বরং আরও টাকার জন্য মারধর করে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাতে থাকে।
ভিকটিমের পরিবার উত্তরা পশ্চিম থানাকে জানালে পুলিশ আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের অভিযান টের পেয়ে অপহরণকারীরা ভিকটিমের ওপর নির্যাতন বাড়ায় ও ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন করে।
তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ জুন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভিকটিম আজিবুর রহমানকে উদ্ধার করা হয়। একইসাথে অপহরণের মূল হোতা মো. সজিব মিয়া (২৯) পিতা-মৃত নজরুল মিয়া, বর্তমান-বাসা ৪৫/২ হোলান, থানা-দক্ষিণখানসহ তার ৩ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামীদের কাছ থেকে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় অপহরণ মামলা রুজু করা হয়েছে।
অপর এক ঘটনা সম্পর্কে
তিনি আরো জানান,
দুবাই প্রবাসী রিপন চৌধুরী, ৪২, দীর্ঘদিন দুবাই আজমান শহরে চাকরি করেন। তার সহকর্মী ও এলাকার বাসিন্দা মো. নুর হোসাইন সোহাগ, ৩৭, এর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
১ জুন বেলা ১টা ৫৩ মিনিটে তারা একই বিমানে দুবাই থেকে দেশে আসেন। রিপন চৌধুরী সরল বিশ্বাসে তার কাছে ১০টি স্বর্ণের আংটি, ১টি স্বর্ণের চেইন, ২টি স্বর্ণের গলার হার মোট ৯ ভরি, মূল্য আনুমানিক ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ১টি স্যামসাং এস-২৪ আলট্রা ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ১টি সনি এক্সপেরিয়া ২৫ হাজার টাকা ও ১টি পুরাতন এইচপি ল্যাপটপ ৩৫ হাজার টাকা রাখতে দেন।
উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৭ নম্বর সেক্টরের হাউজ বিল্ডিং এলাকায় পৌঁছানোর পর রিপন চৌধুরী পরিবারের জন্য মালামাল কিনতে গেলে সোহাগ স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক্স নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ পেয়ে তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ জুন লক্ষ্মীপুর সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. নূর হোসাইন সোহাগ, ৩৭, পিতা-ইসমাইল হোসাইন, মাতা-খুরশিদা বেগম, সাং-রতনপুর, থানা-চন্দ্রগঞ্জ, জেলা-লক্ষ্মীপুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে আত্মসাৎকৃত ৯ ভরি স্বর্ণালংকার, স্যামসাং-সনি মোবাইল ও এইচপি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক আত্মসাতের মামলা রুজু করা হয়েছে।
এছাড়াও গত
১৪ জুন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৩৯ পিস ইয়াবাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া মাদক সম্রাট অনিক ও তার স্ত্রীকে ও গ্রেফতার করেন তারা। চুরি, ছিনতাই, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
উত্তরা বিভাগের ডিসি দুপুরে উত্তরা ৬ নং সেক্টর ১ নং রোড কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান,মাদক নির্মূল ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন