সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিশোরগঞ্জ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম।
আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে জেলায় ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলা থেকে মোট ১৮ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে মোট ১৮ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ থেকে শুরু হওয়া এ সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হবে।
সরকার নির্ধারিত দামে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে ক্রয় করা হবে, যা প্রতি মণে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৪০ টাকা। তবে ভেজা বা নিম্নমানের ধান গ্রহণ করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৭৫ মণ পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন। কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে পুরো অর্থ লেনদেন করা হবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে, ফলে নগদ লেনদেনের সুযোগ থাকছে না। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষক কার্ডধারীদের পাশাপাশি কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকেও ধান সংগ্রহ করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে জেলার ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার হাওরাঞ্চলে।
অষ্টগ্রামের কৃষক আলাল মিয়া বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমাদের স্বপ্নের সোনালি ধান তলিয়ে গেছে। পানির কারণে মেশিন দিয়ে ধান কাটতে পারছি না। শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, আবার বেশি দাম দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এ বছর বেশিরভাগ কৃষকই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আরেক কৃষক জালাল উদ্দীন বলেন, যারা কোনোভাবে ধান কাটতে পেরেছি, তাদেরও সমস্যা শেষ হয়নি। রোদ না থাকায় ধান শুকাতে পারছি না। ফলে সরকারি গুদামের শর্ত অনুযায়ী আর্দ্রতা কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বাজারেও ধানের দাম কম। আমরা এখন দুই দিক থেকেই চাপে আছি।
জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে ১৮ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ থেকে কেজি প্রতি ৩৬ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ভেজা বা নিম্নমানের ধান কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না।
মন্তব্য করুন