অনলাইনে উপার্জনের লোভ দেখিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
গতকাল দিবাগত রাতে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব ইউনিট রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন নতুন রাস্তা এলাকা থেকে একজনকে গ্রেফতার করে। একই দিন রাতে নিউমার্কেট থানার প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার এলাকা থেকে এ ঘটনায় আরেক জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আসামিদের কাছ থেকে অপরাধকর্মে ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়।সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৩) ও মো. রাজিব খাঁন (৩৩)। সিআইডি জানায়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই মতিঝিল থানাধীন এক ভুক্তভোগী টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে সাবরিনা ইসলাম নামে একটি আইডির সঙ্গে পরিচিত হন। ওই আইডি থেকে তাকে অনলাইনে সহজে আয় করার প্রলোভন দেখিয়ে অটোমিক মার্কেট নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে প্রস্তাবে সম্মত হয়ে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। প্রথমে প্রতারকরা স্বল্প অঙ্কের টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে কমিশন ও বোনাস প্রদান করে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে।
এতে ভুক্তভোগীর কাছে বিষয়টি বৈধ ও লাভজনক বলে মনে হয়। পরবর্তীতে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে বলা হয়। ভুক্তভোগী বিভিন্ন সময়ে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা জমা দিতে থাকেন।
এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ লাভ দেখানো হলেও সেই অর্থ উত্তোলনের সময় ‘সিকিউরিটি ফি’, ‘সার্ভিস চার্জ’, ‘এনএফটি স্কোর বৃদ্ধি’ ইত্যাদি বিভিন্ন অজুহাতে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে এসব অর্থও প্রদান করেন।এভাবে প্রতারক চক্রটি ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৯ টাকা আত্মসাৎ করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে প্রতারকরা বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন।গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন