বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত নাম অ্যাডভোকেট ফারহানা জাহান নিপা। সংরক্ষিত মহিলা আসনের একজন শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি শুধু একজন প্রার্থী নন—তিনি রাজপথের একজন পরীক্ষিত সৈনিক, যিনি গত প্রায় সতেরো বছর ধরে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের ধাপে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন আপসহীন ও সাহসী নেত্রী হিসেবে।
দেশের ক্রান্তিকালে, বিশেষ করে খালেদা জিয়া-এর রায়ের দিন শাহবাগে আন্দোলনে অংশগ্রহণকালে তিনি গ্রেফতার হন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সেই গ্রেফতারের পর টানা পাঁচ মাস কারাবাসেও তার মনোবল ভেঙে যায়নি। বরং কারাগারের প্রতিটি দিন তাকে আরও দৃঢ়, আরও আপসহীন করে তুলেছে।
তার বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় ১৮টি মামলা চলমান রয়েছে। আইনি এই চাপের মধ্যেও তিনি কখনো রাজপথ ছেড়ে যাননি। বরং গ্রেফতার, কারাবাস, জামিন—প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে বারবার ফিরে এসেছেন আন্দোলনের ময়দানে।
এমনকি জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়েও তিনি থেমে থাকেননি। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও তাকে আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হয় এবং অন্যায়ভাবে জামিন বাতিল করা হয়। সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও মাত্র দশ দিনের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও রাজপথে ফিরে আসেন—যা তার অদম্য সাহস, মানসিক শক্তি ও সংগ্রামী চেতনার অনন্য দৃষ্টান্ত।
তবে তার সংগ্রাম শুধুমাত্র রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অ্যাডভোকেট ফারহানা জাহান নিপা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
নারীদের অধিকার রক্ষা, নির্যাতিত ও অবহেলিত নারীদের আইনি সহায়তা প্রদান, তাদের সচেতন ও স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ—এসব ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো—এসব কার্যক্রমে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত থেকেছেন।
দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য তার কাজও সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সহযোগিতা এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি নীরবে মানুষের পাশে থেকেছেন।
প্রতিটি সভা-সমাবেশ, মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। তার রাজনৈতিক দর্শন সুস্পষ্ট—রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়।
অন্যদিকে তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম তালুকদার ছিলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক সাহসী সংগঠক। মহান বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ-এ সুন্দরবন সাব-সেক্টরের সেকেন্ড ইন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংগঠন গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর বাগেরহাট জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে রেখে গেছেন অনন্য অবদান।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গণমানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম চালিয়ে যান। পাশাপাশি নিজের অর্থায়ন ও জমিতে ৩০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে তিনি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেন।
এই মহান নেতার আদর্শ ও সংগ্রামের পথ ধরেই এগিয়ে চলেছেন তার কন্যা অ্যাডভোকেট ফারহানা জাহান নিপা। বাগেরহাট-৪ আসন থেকে দুইবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি তার রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছেন।
বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী হিসেবে তার দীর্ঘ সংগ্রামী অভিজ্ঞতা, ত্যাগ, নেতৃত্বগুণ এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম তাকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।
অ্যাডভোকেট ফারহানা জাহান নিপার এই পথচলা প্রমাণ করে—তিনি শুধু একজন প্রার্থী নন, তিনি জনমানুষের আস্থার প্রতীক; আর তার পেছনে রয়েছে এক গৌরবময় আদর্শিক ভিত্তি, যা নির্মিত হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম তালুকদারের ত্যাগ ও সংগ্রামের ওপর।
মন্তব্য করুন