মামলা ও আদালতের কার্যক্রমের কারণে ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত কাজে চাপের মুখে পড়ার কথা জানিয়েছেন ঢালিউডের আলোচিত এই অভিনেত্রী।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন বাতিল করে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এমন সিদ্ধান্তের পর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আদালতে উপস্থিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমানের আদালত পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় পরীমনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এর প্রভাব পড়ছে তাঁর অভিনয়জীবন, ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক কর্মকাণ্ডেও।
মামলার নামে হেনস্তার অভিযোগ পরীমনির
পরীমনির দাবি, মামলার তদন্ত যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, এমন পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে?
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পরীমনি জানান, তিনি আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চান তিনি।

আদালতে অনুপস্থিতির কারণ জানালেন আইনজীবী
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) জানিয়েছেন, অ্যালার্জিজনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হতে পারেননি অভিনেত্রী।
এ কারণে আদালতে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। এদিন মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
যে ঘটনা থেকে মামলার সূত্রপাত
২০২১ সালের ৯ জুন রাতে ঢাকার অদূরে সাভারের বোট ক্লাবে সংঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমনি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ওই ঘটনার পর পরীমনি নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
অন্যদিকে ২০২২ সালের ৬ জুলাই নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। মামলায় মারধর, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।
তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমনি ও জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
এবার নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় পরীমনির জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় মামলাটি আবার আলোচনায় এসেছে।
তবে পরীমনি জানিয়েছেন, তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
মন্তব্য করুন