স্পোর্টস ডেস্ক, লিড নিউজ ২৪
ঢাকা:
ইংল্যান্ডের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের ক্ষত এখনো শুকায়নি, তার ওপর নতুন করে বড় শাস্তির মুখে পড়ল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মন্থর ওভার রেটের (স্লো ওভার রেট) কারণে পাকিস্তানকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট টেবিল থেকে ১১ পয়েন্ট জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। একই সঙ্গে দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে তাদের ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।
আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালে এই শাস্তির নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পাকিস্তান মোট ১১ ওভার পিছিয়ে ছিল বলে অন-ফিল্ড আম্পায়ার পল রাইফেল ও ক্রিস গাফানি, তৃতীয় আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার রাসেল ওয়ারেন অভিযোগ আনেন।
আইসিসির আচরণবিধির ২.২২ ধারা অনুযায়ী, প্রতি ওভার পিছিয়ে থাকার জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ হারে জরিমানা করা হয়, যা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পাকিস্তান ১১ ওভার পিছিয়ে থাকায় দলের ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম (ধারা ১৬.১১.২) অনুযায়ী প্রতি ওভার ঘাটতির জন্য কাটা যায় একটি করে চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট। সেই হিসেবে পাকিস্তানের ঝুলি থেকে একলপ্তে কাটা গেছে মূল্যবান ১১ পয়েন্ট।
এই জরিমানার ফলে চলতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে পাকিস্তানের অবস্থান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ৯টি টেস্ট শেষে শাস্তির কবলে পড়ে দলটির পয়েন্ট এখন মাত্র ৫-এ নেমে এসেছে। তাদের পয়েন্টের শতকরা হার (পয়েন্ট পার্সেন্টেজ) কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৬৩%-এ, যা টেবিলের নবম অর্থাৎ সর্বশেষ স্থানে থাকা পাকিস্তানকে আরও কোণঠাসা করে দিয়েছে। এমনকি টেবিলের আটে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট শতকরা হারও পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি (২০.৮৩%)।
উল্লেখ্য, চলতি চক্রে এটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় ওভার রেট সংক্রান্ত শাস্তি। এর আগে গত মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টেও স্লো ওভার রেটের কারণে ৮ পয়েন্ট হারিয়েছিল তারা।
ইংল্যান্ড সফরে মাঠ ও মাঠের বাইরে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সময় পার করেছে পাকিস্তান দল। হেডিংলি ও লর্ডসে টানা দুই পরাজয়ের পর এজবাস্টন টেস্টের আগে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগাসহ সাতজন নিয়মিত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে। পরবর্তীতে নতুন সাতজন ক্রিকেটার ও অন্তর্বর্তীকালীন কোচিং স্টাফ নিয়ে এজবাস্টনে নেমেও ৮ উইকেটে হেরে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারেনি সফরকারীরা।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রে পাকিস্তানের সামনে সুযোগ এখন খুবই সীমিত। আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ এবং ২০২৭ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। তবে সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক এই শাস্তির পর ডব্লিউটিসির ফাইনালে ওঠার ক্ষীণ আশাটুকুও পাকিস্তানের জন্য পুরোপুরি মিলিয়ে গেল।
সম্পাদকের নোট:
* খবরটির ইন্ট্রো (লিড) এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন পাঠক শুরুতেই শাস্তির মাত্রা ও প্রেক্ষাপট একনজরে পেয়ে যান।
* মূল প্রতিবেদনে আইসিসির সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী, বর্তমান পয়েন্ট টেবিলের পরিস্থিতি এবং ইংল্যান্ড সফরের পেছনের নাটকের মতো প্রাসঙ্গিক তথ্য সংযোজন করে প্রতিবেদনটিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আকর্ষণীয় করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন