সায়মন খান, লিড নিউজ ২৪
কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর ওই নেতার সাত স্বজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় এ নাটকীয় ঘটনা ঘটে।
পালিয়ে যাওয়া ওই নেতার নাম রেনু মিয়া। তিনি ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি।
যেভাবে পালালেন রেনু মিয়া
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির কার্যালয় পোড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার অন্যতম আসামি রেনু মিয়া। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশের ৫-৬ সদস্যের একটি দল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতর থেকেই রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরানো হয়। কিন্তু তাকে বাইরে উঠানে নিয়ে আসতেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন নারীসহ স্থানীয় লোকজন তাকে ঘিরে ফেলেন। পুলিশ ভিড় ঠেলে তাকে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে কয়েকজন নারী পুলিশের পথ আটকে দাঁড়ান এবং রেনু মিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের তুমুল বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগান রেনু মিয়া। ভিড়ের মধ্যে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাতকড়াসহ বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে চোখের পলকে উধাও হয়ে যান তিনি।
স্বজনদের আটক ও পুলিশের ভাষ্য
রেনু মিয়া পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ তার পিছু নিলেও শেষ পর্যন্ত তার নাগাল পায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেনু মিয়ার কয়েকজন নারী আত্মীয়সহ মোট সাতজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তার এবং হাতকড়া উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল জোরদার অভিযান চালাচ্ছে।
আটককৃত সাত স্বজনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আটককৃতদের বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদি মূল আসামি রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।”
ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা হলেও উপজেলাজুড়ে রেনু মিয়ার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দিনেদুপুরে পুলিশের হাত থেকে আসামির এমন পলায়নের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন