নওগাঁ রানিনগর প্রতিনিধি: নেকিদুল ইসলাম নিক।
**রাণীনগরের গল্প**
ব্রিটিশ কলোনিয়াল পিরিয়ডে বাংলাদেশের যে সমস্ত পুলিশ থানা প্রতিষ্ঠিত হয় তার মধ্যে নওগাঁ জেলার রাণীনগর অন্যতম। নওগাঁ জেলার একটি প্রাচীন থানা/প্রশাসনিক ইউনিট হলো রানীনগর থানা, যা ১৮৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
রানীনগর থানার নামকরণ নিয়ে মূলত দুটি জনপ্রিয় জনশ্রুতি রয়েছে : প্রথমত সবচেয়ে প্রচলিত মত অনুযায়ী, নাটোরের বিখ্যাত জমিদার রানী ভবানী (যিনি অর্ধবঙ্গেশ্বরী নামে পরিচিত ছিলেন) তাঁর বাবার বাড়ি ছাতিয়ানগ্রাম যাওয়ার পথে বর্তমান রানীনগর বাজার এলাকায় যাত্রাবিরতি ও বিশ্রাম নিয়েছিলেন। রানীর এই অবস্থানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে পরবর্তীকালে এই জায়গার নাম রাখা হয় রানীনগর।
অন্য একটি ঐতিহাসিক মতানুসারে, ১১শ-১২শ শতাব্দীতে এই অঞ্চলে পাল বংশের প্রভাবশালী জমিদার খট্টেশ্বর রাজা শাসন করতেন। তাঁর অত্যন্ত প্রভাবশালিনী রানীর সম্মানে এই মৌজার নাম রাখা হয়েছিল রানীনগর, আর রাজার নামানুসারে এই পরগনার নাম হয় খট্টেশ্বর পরগনা। বর্তমান রানীনগর উপজেলার ১নং ইউনিয়নের নাম এখনও খট্টেশ্বর রানীনগর। ইংরেজ সেটেলমেন্ট রেকর্ডেও এই অঞ্চলের পরগনার নাম ‘খট্টেশ্বর’ এবং মৌজার নাম ‘রানীনগর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যসূত্র বাংলাদেশ (জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া, স্থানীয় ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ সমূহ, ব্রিটিশ সেটেলমেন্ট রেকর্ড)
পাল বংশীয় প্রভাবশালী রাজা খট্টেশ্বর-এর নামানুসারে এই এলাকার নাম হয়েছে খট্টেশ্বর পরগনা। পাল রাজার নাম অনুসারে এই এলাকায় খট্টেশ্বর রানীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং খট্টেশ্বর রানীনগর পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদ নামকরণ করা হয়েছে।
খট্টেশ্বর পরগনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থাকলেও আধুনিক রানীনগর শহর বা জনপদের মূল ভিত্তিটি তৈরি হয়েছে ১৮৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই থানাকে কেন্দ্র করেই। থানার প্রশাসনিক শক্তি এবং রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের পর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে খট্টেশ্বর রানীনগর বাজারটি এই অঞ্চলের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপ নেয়।
১৯২৫ সালে ব্রিটিশ শাসন আমলে রানীনগর রেল স্টেশনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি এই রেল স্টেশনের শতবর্ষ উদযাপিত হয়। ১৯৮৩ সালে এই থানাকে কেন্দ্র করে রানীনগর এলাকাটি নিয়ে রানীনগর উপজেলা গঠিত হয়। রানীনগর থানা এলাকার আয়তন ২৫৮.৩৩ বর্গ কিলোমিটার যেখানে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ লোকের বসবাস।
বর্তমানে রানীনগর থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা যথেষ্ট ভালো। একসময় আত্রাই রাণীনগর এলাকায় চরমপন্থীদের যথেষ্ট তৎপরতা ছিল। কিন্তু গত এক দশকে পুলিশের এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান অভিযানের মুখে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা এখন যথেষ্ট ভালো। রানীনগর এলাকার প্রধান অপরাধের মধ্যে রয়েছে সড়কে ছিনতাই, চুরি, প্রতারণা, মাদক নারী ও শিশু বিষয়ক অপরাধ এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ। বর্তমান পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রানীনগর থানা পুলিশ পুরাতন এই জনপদের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে।
মন্তব্য করুন