আসন্ন ঈদযাত্রায় সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনা কমাতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার গ্রহণের সুপারিশ করেছে সেবা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।
আজ সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদি সুপারিশমালার মধ্যে রয়েছে রেললাইন সংস্কার এবং সম্প্রসারণ করে ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে সড়ক পথের মানুষকে ট্রেনমুখী করা, ট্রেনে ফ্রীজয়িং বগি চালু করা, ক্যান্টিনের ন্যায় মেডিকেল বগি রাখা। নদীপথ সংস্কার ও জনবান্ধব করা, মন্ত্রণালয়ে রোড সেফটি গবেষণা উইং প্রতিষ্ঠা করা, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করা এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ও নির্ভরযোগ্য সড়ক নিরাপত্তা ডাটাবেস গড়ে তুলা এবং জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করা।
এছাড়া, সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন নীতি সমন্বিত করতে একটি একীভূত যোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার চক্র ভাঙতে বিআরটিএ’র সংস্কার এবং প্রয়োজনে আধুনিক সড়ক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করা এবং পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটিগুলোকে সক্রিয় করে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোকে একটি আধুনিক মহাপরিকল্পনার আওতায় নিয়ে ডিভাইডারযুক্ত লেন, সার্ভিস লেন এবং নিরাপদ ইন্টারসেকশন থাকার কথাও সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নৌপথের নাব্যতা ধরে রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করা এবং রাতে চলাচলের জন্য আধুনিক ও দৃশ্যমান বয়া বা সংকেত স্থাপন করা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রোড সেফটি বিষয়ে পূর্ণ ডিপার্টমেন্ট চালু করার কথা বলা হয়।
স্বল্প মেয়াদি সুপারিশমালায় পরিবার থেকে প্রতিটি শিশুর সাঁতার শেখা নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঈদ যাত্রা করার সময় গাড়ির ফিটনেস চেক করা, লাইফ জ্যাকেট, ফাস্ট এইড মেডিকেল এবং জরুরি সরঞ্জাম রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা, পরিবারের সদস্যদেরকে অসচেতনভাবে রাস্তাপারাপারের বিষয়ে অনুৎসাহী করা ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়াও অনেক সময় ব্যক্তিগত গাড়ি মালিক নিজেই চালান বলে দূরযাত্রার ক্ষেত্রে তা বিপদজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও পেশাজীবী চালক দিয়ে গাড়ি চালানো নিশ্চিত করা, যানবাহনে তেল ও গ্যাস নেয়ার সময় গাড়ি থেকে নামা, ফেরিতে গাড়ি উঠা ও নামার সময় গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ানো, গাড়ি চলন্ত অবস্থায় চালকের সঙ্গে কথা না বলা, চালকের সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত না হওয়া, চালকের বিশ্রাম নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক পোস্ট দেয়া, অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানকে যানবাহন বিশেষত মোটরসাইকেল চালাতে না দেয়ার ব্যাপারেও সুপারিশ করা হয়।
পরিবার থেকেই অবৈধ পার্কিং না করা, হেলমেট ব্যবহার, সিটবেল্ট বাঁধা, বেপরোয়া গতি, সিগন্যাল অমান্য না করা, মোটরসাইকেলে দুইজনের বেশি আরোহী না নেয়ার বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা এবং এ সকল কালচার ও অভ্যাস শিশুকাল থেকে গড়ে তোলার ব্যাপারেও সুপারিশ করা হয়।
মন্তব্য করুন