একটি মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় যুদ্ধজাহাজে আটকে পড়া ২৩৮ জন ইরানি নাবিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণা জয়সেকারা বুধবার এএফপিকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার উপকূলে হামলার শিকার ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস দেনা’ থেকে উদ্ধার হওয়া ৩২ জন এবং ‘আইআরআইএস বুশেহর’ থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ২০৬ জন নাবিক মঙ্গলবার দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
জয়সেকারা জানান, ‘আইআরআইএস বুশেহর’ জাহাজটি পরিচালনার জন্য কয়েকজন নাবিক শ্রীলঙ্কায় থেকে যাচ্ছেন। তবে ২০৬ জনের সঙ্গে ‘আইআরআইএস দেনা’ থেকে উদ্ধার হওয়া নাবিকরাও যুক্ত হয়ে গত রাতে একটি চার্টার্ড বিমানে করে দেশে ফিরেছেন।
সরকারি সূত্র জানায়, দ্বীপটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিনকোমালি বন্দরে নোঙর করা ‘আইআরআইএস বুশেহর’ জাহাজটি পরিচালনার জন্য ১৫ জন ইরানি নাবিক শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করবেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ‘আইআরআইএস দেনা’ জাহাজে হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের শুরুর দিকে ওই হামলায় ১০৪ জন নাবিক নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ইতোমধ্যে দেশে পাঠানো হয়েছে।
গত মাসে শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা দেলখোশ জানান, ‘আইআরআইএস দেনা’ ডুবে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কায় নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া ‘আইআরআইএস বুশেহর’ জাহাজের নাবিকদের দেশে ফেরাতে তেহরান কলম্বোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিসানায়েকে বলেন, ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশন অনুযায়ী মানবিক কারণে ‘আইআরআইএস বুশেহর’-এর নাবিকদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।
তবে দ্বিতীয় ইরানি জাহাজটির নাবিকদের কোন আইনি ভিত্তিতে শ্রীলঙ্কার হেফাজত থেকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
কলম্বোর নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে শ্রীলঙ্কা মার্কিন যুদ্ধবিমানকে দেশটির স্থলভাগের স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।
এদিকে, মার্চের শুরুতে ১৮৩ জন নাবিকসহ তৃতীয় একটি ইরানি জাহাজ ‘আইআরআইএস লাভান’ ভারতের কোচি বন্দরে আশ্রয় নেয়।
এরপর থেকে জাহাজটির ১০০ জনেরও বেশি নাবিক ভারত ত্যাগ করেছেন।
মন্তব্য করুন