নিউজ ডেস্ক
১ ঘন্টা আগে
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ২ জন

অন্যের কৌতূহলের চেয়ে নিজের স্বস্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পারিবারিক অনুষ্ঠান, আত্মীয়ের বাসা কিংবা কোনো সামাজিক আড্ডা; যেখানেই যান কিছু প্রশ্ন যেন পিছু ছাড়ে না। ‘বিয়ে কবে?’, ‘চাকরি কই?’, ‘এখনো সেটেলড না?’; এ ধরনের প্রশ্ন অনেক সময় বিব্রতকর হয়ে ওঠে। সরাসরি প্রতিবাদ করলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, আবার চুপ থাকলেও অস্বস্তি কাটে না। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে ভদ্রতা বজায় রেখে নিজেকে সামলাবেন, জেনে নিন কিছু কার্যকর উপায়।

কেন এমন প্রশ্ন করা হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের সমাজে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল অনেক বেশি। অনেকে সামাজিকভাবে ‘কেয়ার’ দেখানোর অংশ হিসেবে এমন প্রশ্ন করেন। কেউ কেউ আবার নিজের অভিজ্ঞতা বা প্রত্যাশা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে এটি নিছক কথা শুরু করার সহজ উপায়ও।মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রশ্নগুলো সব সময় খারাপ উদ্দেশে করা হয় না, কিন্তু এগুলোর প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

স্মার্টভাবে সামলাবেন যেভাবে

১. হালকা হাসি দিয়ে এড়িয়ে যান

সব প্রশ্নের জবাব সিরিয়াসভাবে দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। তাই ‘দোয়া রাখেন, সময় হলে জানাব’— এ ধরনের উত্তর অনেক সময় পরিস্থিতি হালকা করে দেয়।

২. সংক্ষিপ্ত ও নিরপেক্ষ উত্তর দিন

বেশি ব্যাখ্যায় গেলে প্রশ্ন বাড়ে। তাই ‘চেষ্টা করছি’, ‘প্রসেসে আছি’— এ ধরনের ছোট উত্তরই যথেষ্ট।

৩. কথার মোড় ঘুরিয়ে দিন

প্রশ্ন এড়িয়ে অন্য প্রসঙ্গ তুলুন। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নকারীকে আপনিও কিছু প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন : ‘আপনার ছেলে তো এবার কলেজে উঠল, কেমন করছে?’

৪. সীমা নির্ধারণ করুন

যদি প্রশ্ন বারবার আসে, তখন ভদ্রভাবে সীমা টানতে পারেন। ‘এই বিষয়টা নিয়ে একটু ব্যক্তিগত থাকতে চাই’— এভাবে বললে অনেকেই বুঝে যান।

৫. হিউমার ব্যবহার করুন

হালকা মজা অনেক সময় অস্বস্তি কমায়। তাই ‘চাকরি খুঁজছি, পেলে আপনাকেই প্রথমে বলব’— এ জাতীয় মজাদার উত্তর আপনার পরিস্থিতিকে খুব সহজে সামলে নিতে পারবে।

৬. নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখুন

যদি আপনি প্রস্তুত না থাকেন, সেটা স্বীকার করাও স্বাভাবিক। তাই বিয়ের প্রশ্নে সহজ উত্তর হিসেবে বলতে পারেন, ‘এখন ক্যারিয়ারটাই ফোকাস করছি’— এটা আপনার আত্মবিশ্বাসেরই প্রকাশ।

কেন ‘না’ বলা গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের ব্যক্তিগত সীমা রক্ষা করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আপনার দায়িত্ব নয়। বরং ভদ্রভাবে ‘না’ বলতে শেখা আত্মসম্মান ও মানসিক স্বস্তি দুটোই বজায় রাখে।

কী এড়িয়ে চলবেন

১. রেগে গিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো

২. অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা

৩. নিজেকে ছোট করে ফেলা বা অপরাধবোধে ভোগা

শেষ কথা

সমাজে চলতে গেলে এমন প্রশ্ন এড়ানো সম্ভব নয়। তবে কৌশল জানা থাকলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও সহজ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, আপনার জীবন আপনার সিদ্ধান্ত। অন্যের কৌতূহলের চেয়ে নিজের স্বস্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র : আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক ও মাইন্ড

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের আগুন নিয়ন্ত্রণে, বিকল্প রুটে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন সামিটে অংশ নিতে তথ্যমন্ত্রীর তুরস্ক যাত্রা

টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার মৌসুমী হামিদের স্বামীর

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জেলা জাসদের শ্রদ্ধা নিবেদন

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জেলা জাসদের শ্রদ্ধা নিবেদন

অন্যের কৌতূহলের চেয়ে নিজের স্বস্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাধীনতা দিবসে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির শ্রদ্ধা

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস : যুক্তরাষ্ট্র

১০

প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িতে জাতীয় পতাকা

১১

মেলানিয়া ট্রাম্পসহ ফার্স্ট লেডিদের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সাক্ষাত

১২

২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবীন ফ্যাশন খুলে দেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ

১৩

কাল মহান স্বাধীনতা দিবস জাতীয় স্মৃতিসৌধের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

১৪

দৌলতদিয়ায় নদীতে বাস তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ১২ জনের লাশ উদ্ধার

১৫

রাজধানীর উত্তরায় কিটামিন তৈরির ল্যাব জব্দ, বিদেশি নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৩

১৬

গণহত্যা দিবস উপলক্ষে পিরোজপুরে আলোচনা

১৭

মহান স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে: প্রধানমন্ত্রী

১৮

মার্কিন ফার্স্ট লেডির আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে গ্লোবাল সামিটে ভাষণ দিলেন ডা. জুবাইদা

১৯

স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গভবন এলাকায় যান চলাচলে নির্দেশনা

২০