গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর প্রতি সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা ইরানের প্রতিক্রিয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় খুলতে কোনো সম্ভাব্য মিশনে অংশ নেওয়ার অনুরোধে পিছু হটেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ট্রাম্প বলেন যে তার আহ্বানে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচলের জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে এতটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তিনি তাদের প্রতি নিন্দা জানান।
এই প্রণালী সাধারণত বিশ্বের পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল বহন করে, তাই তিনি চাইছেন আরও উৎসাহী ও সক্রিয় প্রতিক্রিয়া।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা এবং পারস্য উপসাগরে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
এই সংঘাত লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে এবং একটি ‘সীমিত’ স্থল অভিযান শুরু করেছে।
পশ্চিমা নেতারা গতকাল সোমবার ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেছেন, এটি যেন একটি বড় আকারের সংঘাতে পরিণত না হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে, তবে তা ‘অনিচ্ছার সাথে বা খুব একটা আগ্রহ না দেখিয়ে করবে’।
হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অন্যান্য দেশগুলোকে এতে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং দ্রুত ও বিপুল উৎসাহের সঙ্গে যুক্ত হতে জোরালোভাবে উৎসাহিত করছি।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, লন্ডন প্রণালীটি পুনরায় খোলার জন্য একটি ‘কার্যকর’ পরিকল্পনা প্রণয়নে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে।
তবে তিনি ন্যাটোর কোনো অভিযানের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে বার্লিনও বলেছে, এই যুদ্ধ কখনও ন্যাটোর বিষয় নয়।
জাপান, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, স্পেন, গ্রিস ও সুইডেনও হরমুজ প্রণালীতে যে কোনো ধরনের সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুদ্ধটি নিয়ে আলোচনা করলেও হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সাহায্য করার জন্য তাদের লোহিত সাগরের নৌ মিশন সম্প্রসারণের ব্যাপারে ‘কোনো আগ্রহ’ দেখাননি।
গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস’-কে বলেন, মিত্ররা সাহায্য করতে অস্বীকার করলে তা ‘ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুবই খারাপ’ হবে।
গতকাল সোমবার তিনি বলেন, এই ইস্যুতে তিনি চীনা নেতা সি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি শীর্ষ সম্মেলন ‘মাসখানেক’ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
মন্তব্য করুন