ঢাকা প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাকিবুল হাসান সানি। তাঁর দাবি, সুমন নামের এক ব্যক্তি তাঁকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগের পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। এ-সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ প্রকাশ্যে আসার পর নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানিয়েছেন সানি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই কল রেকর্ডে হত্যার পরিকল্পনা এবং বিকাশের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে রেকর্ডটির সত্যতা, কথোপকথনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে সাকিবুল হাসান সানি বলেন, “সুমনকে আমি আগে থেকে তেমনভাবে চিনতাম না। দেখা হলে সে আমার খোঁজখবর নিত, কেমন আছি জানতে চাইত। এভাবেই একপর্যায়ে তার সঙ্গে মোটামুটি ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন সে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করবে, সেটি আমার বোধগম্য নয়।”
সানি দাবি করেন, প্রকাশ্যে আসা কথিত ফোনালাপ থেকে তাঁর ধারণা হয়েছে, হত্যার পরিকল্পনার পেছনে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন। এমনকি তাঁকে হত্যার জন্য অর্থ দেওয়ার বিষয়েও ওই কথোপকথনে আলোচনা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি বলেন, “ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ড শোনার পর আমার মনে হয়েছে, আমাকে হত্যার পরিকল্পনার পেছনে অন্য কেউ থাকতে পারে। আমাকে হত্যার জন্য অর্থ দেওয়ার কথাও সেখানে এসেছে। অথচ এখন সুমন কয়েকটি গণমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে। তার সঙ্গে আমার এমন কোনো শত্রুতা ছিল না যে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করতে হবে। কেন সে হঠাৎ আমার পেছনে লাগল, সেটিই আমার প্রশ্ন।”
সানির অভিযোগ, তাঁকে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সুমন বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে মূল ঘটনা থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মনে করছেন তিনি।
এ ছাড়া সুমনের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা থাকার দাবিও করেছেন সানি। তবে এসব মামলার বিস্তারিত তথ্য ও বর্তমান আইনগত অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সানি জানান, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। একই সঙ্গে কথিত কল রেকর্ডের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে সুমনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে জানা গেছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সানির উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। কথিত ফোনালাপের সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন