উত্তরা (ঢাকা): সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ভুয়া পরিচয় ও পোশাক পরিহিত ছবি ব্যবহার করে এক ইতালি প্রবাসীর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু (৩৫) নামের এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা।
আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ৩ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত পিবিআই ঢাকা জেলার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত তোফায়েল আলম টিটু ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার ছয়ান হাজার রামতোল এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন এবং বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিম উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন বাহের বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগম (৪৬)-এর ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাত খান (২২)-এর সঙ্গে ফেসবুকে ‘লেডি কোলকাত/নারী যোদ্ধা’ নামক একটি আইডির মাধ্যমে পরিচয় হয় টিটুর। টিটু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরিহিত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করত এবং ফোনে হুবহু নারীকণ্ঠে কথা বলে শাহাদাতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরবর্তীতে নিজের ভুয়া মায়ের অসুস্থতার কথা বলে বিভিন্ন কৌশলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে শাহাদাতের মায়ের কাছ থেকে আনুমানিক ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী পরিবার প্রথমে আদালতে সিআর মামলা দায়ের করলে প্রাথমিক তদন্তে বিকাশ ও নগদের লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা (মামলা নং-২৮, তারিখ- ১০/০৯/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৪০৬/৪২০ পেনাল কোড) রজু করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্ত শুরু করে।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ মনজুর রহমান অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর আসামি তোফায়েল আলম টিটু বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
পিবিআইয়ের তদন্তে দেখা গেছে, টিটু নারীকণ্ঠে কথা বলতে পারদর্শী হওয়ায় এই কৌশল কাজে লাগিয়ে দেশে ও প্রবাসে থাকা আরও অনেকের সঙ্গে নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। এছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলার আদালতে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ, পিপিএম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সংঘটিত এ ধরনের প্রতারণা রোধে এবং জড়িয়ে পড়া চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনতে পিবিআইয়ের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন