নিজস্ব প্রতিবেদক:
তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত আগস্ট মাসজুড়ে দেশব্যাপী পরিচালনা করা বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক ও চোরাচালানকৃত মালামাল উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এসব অভিযানে শতাধিক অপরাধীকে গ্রেফতারের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে খোয়া যাওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ও ব্যক্তিগত সেবা সামগ্রী।
আজ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) হেডকোয়ার্টার্স থেকে পুলিশ সুপার (ট্রেনিং, ল অ্যান্ড মিডিয়া) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, পিপিএম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এপিবিএনের এলআইসি শাখার প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত এক মাসে বিভিন্ন ইউনিট মোট ৭৮৪টি হারানো মোবাইল ফোন, ৩টি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, ২টি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, ২টি ই-মেইল এবং ১টি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করেছে। একই সাথে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে ৫৭২ জন নাগরিককে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান এবং বিকাশ ও নগদ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে ২টি ওয়ান শুটার গান, ৩ রাউন্ড গুলি ও ২টি গুলির খোসা উদ্ধারসহ ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ৬ হাজার ৬৫২ পিস ইয়াবা, ৩.৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৩.৭৫ লিটার মদ, ৩৮৭ কার্টন সিগারেট ও ২০৯ পিস ফ্লেপ সিগারেট জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করে ১৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণের বার ও অলংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা। এ সংক্রান্ত মামলায় ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। চোরাচালানকৃত অন্য পণ্যের মধ্যে ২০০ গ্রাম রূপা, ১ হাজার ৭৬ কেজি প্রসাধনসামগ্রী, ২৬৮ কেজি খাদ্যদ্রব্য, ১৭টি ঘড়ি এবং অন্যান্য মালামাল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, ৫ হাজার ৬৪৫ সৌদি রিয়াল, ৩ হাজার ২৭০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ১ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার, ৬০০ কাতার রিয়াল ও ৩৫ আমিরাতি দিরহাম উদ্ধার করা হয়। এর বাইরে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকা বাংলাদেশী নগদ মুদ্রা এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সমপরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৪৮টি মামলায় ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিআরটিএ, কাস্টমস ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে আরও ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭২ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এসব কার্যক্রমে ৩৬৯ জনকে গ্রেফতার ও সাজা প্রদান করা হয়। বিভিন্ন অভিযানে ২৫ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ১৫ জন এজাহারনামীয় আসামি এবং জুয়া, চুরি ও নারী নিগ্রহসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত আরও বহু আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মানবিক কার্যক্রমে ৩ জন নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২৩টি যানবাহন আটক করা হয় এবং ত্রাণ সামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রয়ের চেষ্টাকালে বিপুল পরিমাণ ডাল, তেল, মরিচ, মসলা ও সাবানসহ ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গত আগস্ট মাসে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএনের মাধ্যমে মোট ৪৩টি (৩১টি জিআর ও ১২টি সিআর) মামলা রুজু করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এপিবিএনের প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মন্তব্য করুন